অক্ষয় কুমারের তীক্ষ্ণ রসবোধ আর রসিকতা ফের একবার দর্শকদের মন জয় করল। জনপ্রিয় গেম শো ‘হুইল অব ফরচুন’-এর ভারতীয় সংস্করণে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। সেই শোয়ের এক বিশেষ পর্বে সহ-অভিনেতা ও বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটিতে উঠে এল দাম্পত্য জীবনের নানা মজার অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠান চলাকালীন অক্ষয় আচমকাই শ্রেয়স তলপাড়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, স্ত্রী রেগে গেলে তিনি কীভাবে তা বোঝেন। স্ত্রীর ‘রাগের সঙ্কেত’ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসতে হাসতেই শ্রেয়স বলেন, তাঁর স্ত্রীর রাগ নাকি কোনও রকম শব্দ ছাড়াই ধরা পড়ে। কখনও রিমোট ছুড়ে মারলে বোঝা যায়, তিনি অতিরিক্ত টিভি দেখছিলেন। আবার ফোন ছুড়ে মারলে স্পষ্ট হয়, ফোন নিয়ে বেশি সময় কাটাচ্ছিলেন। এই সব ইঙ্গিতেই নিজের ভুল ধরতে পারেন তিনি।
এই মজার কথোপকথনে গোটা সেট হেসে ওঠে। রীতেশ দেশমুখ শ্রেয়সকে জড়িয়ে ধরেন। আর জেনেলিয়া দেশমুখ হাসি সামলাতে পারেননি। একই পর্বে রীতেশের সঙ্গে সুখী দাম্পত্যের ‘সহজ সূত্র’ ভাগ করে নেন অক্ষয়। তাঁর মতে, সংসার সুখের চাবিকাঠি একটাই, সময়মতো ‘সরি’ বলতে জানা।
এরপর অক্ষয় জানতে চান, রীতেশ ও জেনেলিয়া কতদিন ধরে একসঙ্গে রয়েছেন। উত্তরে রীতেশ জানান, ১০ বছর প্রেমের পর ১৪ বছর দাম্পত্য। মোট ২৪ বছরের পথচলা। তখনই অক্ষয়ের মজার মন্তব্য, “২৫ বছরের দাম্পত্য যাঁদের, তাঁদের কাছ থেকেই শেখা উচিত। ‘সরি’ বলা শিখে নাও।”
নিজের দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতাও অকপটে সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন অক্ষয়। স্ত্রী টুইঙ্কলের সঙ্গে ঝগড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর রাগ বোঝার এক বিশেষ কায়দা রয়েছে। অক্ষয়ের কথায়, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ই তিনি বুঝতে পারেন স্ত্রী রেগে আছেন কিনা। কারণ, তখন তাঁর দিকের বিছানাটা ভিজে থাকে। রাগের মাথায় টুইঙ্কল নাকি সেখানে জল ঢেলে দেন!
টুইঙ্কলের সঙ্গে ২৫ বছরের দাম্পত্য পূর্ণ করলেন অক্ষয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীর একটি মজার নাচের ভিডিও পোস্ট করেন অভিনেতা। ভিডিওর সঙ্গে দীর্ঘ আবেগঘন বার্তায় উঠে এসেছে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা এবং হাসি-ঠাট্টায় ভরা দাম্পত্যের গল্প।
পোস্টে অক্ষয় লেখেন, ‘২০০১ সালের এই দিনটায় যখন আমাদের বিয়ে হয়েছিল, তখন ওর মা আমাকে বলেছিলেন, ‘বাবা, অদ্ভুত সব পরিস্থিতিতেও হেসে উঠতে প্রস্তুত থেকো, কারণ ও সেরকমই কাজ করবে।’ ২৫ বছর পেরিয়ে বুঝেছি, আমার শাশুড়ি কখনও মিথ্যা বলেননি।’ এরপর রসিকতার সুরে তিনি যোগ করেন, ‘ওঁর মেয়ে সোজা হয়ে হাঁটতেও রাজি নয়… জীবনের পথে সে নাচতে নাচতেই এগোতে ভালবাসে।’
হাসির ইমোজি জুড়ে তিনি লেখেন, ‘এই পাগলামি আমরা দু’জনেই ভালবাসি।’ বার্তার শেষে আবেগের ছোয়া। তাঁর কথায়, ‘প্রথম দিন থেকে পঁচিশতম বছর পর্যন্ত, সেই নারীর জন্য চিয়ার্স, যে আমাকে হাসায়, ভাবায়, আর মাঝেমধ্যে একটু চিন্তায়ও ফেলে দেয়! শুভ বিবাহবার্ষিকী, টিনা।’
