২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে রীতিমত বোমা ফাটান অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে আনেন তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের ছবি। এরপরই তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় জানান তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি এখনও, তাহলে এই বিয়ে কীভাবে বৈধ হতে পারে। গতকাল থেকে এক নাগাড়ে সমালোচনা, কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর নতুন বউ ঋতিকা গিরিকে। হিরণের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা।

 


বুধবার গোটা ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন ঋতিকা। তবে অনিন্দিতার আইনি পদক্ষেপের কথা সামনে আসতেই তড়িঘড়ি পোস্ট মুছে ফেললেন ঋতিকা। কিন্তু কেন? কী এমন লেখা ছিল সেই পোস্টে? 

 


হিরণের নতুন বউ তাঁর সেই পোস্টে জানিয়েছিলেন যে তিনি নাকি বর্তমানে খুবই অসুস্থ, সদ্যই তাঁর একটি অপারেশন হয়েছে। তাই তিনি কারও ফোন ধরতে পারছেন না, বা কোনও সাক্ষাৎকার দিতে পারছেন না। একই সঙ্গে তিনি এই পোস্টে অনিন্দিতার করা একাধিক দাবিকে ভুয়ো বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। 


ঋতিকা তাঁর ফেসবুকের পোস্টে জানিয়েছিলেন তাঁর বয়স সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়কে হিরণ চট্টোপাধ্যায় বহুদিন আগেই ডিভোর্সের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। ওই পোস্টে স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে তাঁদের এই বিয়ে অনেকদিন আগেই হয়েছিল। 


সমাজমাধ্যমে করা একাধিক পোস্টেই তাঁকে শাঁখা সিঁদুর পরে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেই বিষয়ে ঋতিকা লিখেছিলেন,  'এই বিয়ে আমরা অনেক আগেই করেছি। গত পাঁচ বছর ধরে আমরা একসঙ্গে আছি। এবং এই সব বিষয় অনিন্দিতা জানত। আমার সব অ্যাকাউন্ট পাবলিক ছিল। কোনও কিছুই লুকানো ছিল না। তাহলে এত বছর ধরে তিনি কোথায় ছিলেন? কেন তখন কোনও প্রশ্ন তোলেননি।' 

 

ঋতিকার কথা থেকে স্পষ্ট যে তিনি অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়কে 'মিথ্যেবাদী' প্রমাণ করতে চাইছিলেন। হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী আজকাল ডট ইন-এর কাছে দাবি করেছিলেন গত বছর বেশ কিছু মাস অভিনেতা তাঁর এবং তাঁর মেয়ের সঙ্গে কাটিয়েছেন, সেটাকেও মিথ্যে বলে দাবি করেছেন ঋতিকা। তবে তিনি এই কথা তাঁর পোস্টে জানিয়েছিলেন যে অনিন্দিতার যদি মনে হয় এই বিয়ে বেআইনি তাহলে তিনি আইনের সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু অনিন্দিতা মেয়েকে নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হতেই সেই বিস্ফোরক পোস্ট মুছে ফেললেন ঋতিকা। এর আগে হিরণও সমাজমাধ্যমে বেনারসের ঘাট থেকে দ্বিতীয় বিয়ের ছবি পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুছে দেন। যদিও অভিনেতা, বিধায়কের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে নানা চর্চা চললেও এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি তিনি।