কন্নড় চলচ্চিত্র অঙ্গনে আবারও উঠল এল ক্যামেরাম্যানদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন! অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীদের ছবি ও ভিডিও করার সময় ‘ইচ্ছাকৃত জুম-ইন’ এবং ‘অশোভন অ্যাঙ্গেল’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছেন অভিনেত্রী সপ্তমী গৌড়া। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সমর্থনের ঢেউ উঠেছে ইন্ডাস্ট্রিতে। বলা হচ্ছে, অভিনেত্রীদের ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল অ্যাঙ্গল থেকে তোলা হয়। ক্যামেরার ফোকাস তাঁদের শরীরের উপর থাকে।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া এক কড়া ভাষার বিবৃতিতে সপ্তমী লেখেন, চলচ্চিত্র জগতের নারী সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে একটি  সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বহুবার দেখা গেছে, প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বা প্রচারপর্বে উপস্থিত অভিনেত্রীদের ছবি ও ভিডিও এমনভাবে ধারণ ও প্রচার করা হয়, যেখানে তাঁদের কাজের বদলে শরীরকেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়। তাঁর ভাষায়, “আমরা এখানে আমাদের শিল্পের জন্য, আমাদের সিনেমার জন্য। আমাদের শরীরকে উদ্দেশ্য করে অপ্রয়োজনীয় ভুলভাল অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করা স্পষ্টতই অসম্মানজনক।”

তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। “ইচ্ছাকৃতভাবে জুম-ইন করা বা আমাদের অশোভন দেখানো আমাদের মর্যাদার অসম্মান করা। এবং তা কোনওভাবেই স্বাভাবিক হতে দেব না,” লেখেন তিনি। একই সঙ্গে অনুষ্ঠান কভার করা আলোকচিত্রী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পেশাদারিত্ব, ন্যূনতম শালীনতা ও সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। লিখলেন, “আমরা আশা করি যাঁরা অনুষ্ঠানগুলি কভার করবেন তাঁরা পেশাদারিত্ব, শ্রদ্ধা এবং শালীনতা বজায় রাখবেন।”

 

সপ্তমীর পোস্টের পর কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচিত মুখ তাঁর পাশে দাঁড়ান। কান্তারা ছবি খ্যাত অভিনেত্রী রুক্মিণী বসন্ত এবং দিব্যা স্পন্দনা নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বিবৃতি শেয়ার করেন। অভিনেত্রী অসিকা রঙ্গনাথ এই পোস্টটি শেয়ার করে লেখেন, “চলুন, অসম্মান নয়, সম্মানকে স্বাভাবিক করি। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাল, অশ্লীল অ্যাঙ্গেলে অভিনেত্রীদের দেখানোটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

আরও একটি পোস্টে সপ্তমী সাংবাদিকদের উদ্দেশেও বার্তা দেন। তিনি স্বীকার করেন, অনেক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করেছেন। তবে কয়েকজনের আচরণ পুরো পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং নারী শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইন্ডাস্ট্রিতে পাপারাজ্জি সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ভাষার একাধিক তারকা প্রকাশ্যে ক্যামেরা ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তবে সাম্প্রতিক এই বিবৃতি নতুন করে আলোচনায় আনল, প্রচার আর ব্যক্তিগত মর্যাদার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত?

নারী শিল্পীদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, আলোকিত মঞ্চে দাঁড়ালেই কেউ সম্মান বিসর্জন দিতে বাধ্য নন। শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে মর্যাদার দাবিও। আর সেই দাবিকে এবার উচ্চকণ্ঠেই জানালেন তাঁরা।