পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি এবং মানুষের অস্তিত্বের পেছনে আমরা সবসময় সূর্যের অবদানকেই সবচেয়ে বড় করে দেখি। কিন্তু রাইস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত এবং নাসার ফান্ডিংয়ে হওয়া সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর গবেষণা বলছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। মহাকাশ গবেষকদের দাবি, সূর্য নয়, সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ ‘বৃহস্পতি’ বা জুপিটার যদি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় না থাকত, তবে পৃথিবীতে হয়তো কোনও দিন প্রাণের স্পন্দনই জাগত না। এমনকি আমাদের এই চিরপরিচিত নীল গ্রহটি হয়তো কোটি কোটি বছর আগেই সূর্যের বুকে আছড়ে পড়ে বিলীন হয়ে যেত।
2
5
বিজ্ঞানীদের তৈরি নতুন একটি কম্পিউটার সিমুলেশনে দেখা গেছে, প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে সৌরজগতে যখন নতুন নতুন গ্রহ তৈরি হচ্ছিল, তখন চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছিল একের পর এক বিপজ্জনক গ্রহাণু, ধূমকেতু এবং মহাজাগতিক ধুলোবালি। বৃহস্পতি তার বিশাল আকৃতি এবং তীব্র মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে মহাকাশে এক অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছিল।
3
5
সে তার নিজের শক্তিশালী আকর্ষণে এই ধ্বংসাত্মক পাথরগুলোকে পৃথিবীর দিকে আসতে দেয়নি, বরং হয় নিজের বুকে টেনে নিয়েছে অথবা সৌরজগতের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। সহজ কথায়, আকাশে জ্বলজ্বল করা ওই দানবীয় গ্রহটি আসলে আমাদের অলক্ষ্যেই পৃথিবীকে কোটি কোটি বছর ধরে এক মহাজাগতিক ‘বডিগার্ডের’ মতো বাঁচিয়ে রেখে চলেছে।
4
5
তবে এই গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হল গ্রহ তৈরির উপাদানগুলোর গতিপ্রকৃতি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তরল জলের উপস্থিতি বা সঠিক দূরত্বের কারণে পৃথিবী আজ বাসযোগ্য হতে পেরেছে ঠিকই, কিন্তু এই বাসযোগ্য অঞ্চল বা 'গোল্ডিলকস জোনে' পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার পুরো কৃতিত্বটাই বৃহস্পতির।
5
5
বৃহস্পতি যদি তার বিশাল মহাকর্ষ বল দিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় সৌরজগতের ভেতরের দিকের ধুলো এবং গ্যাসের প্রবাহকে আটকে না দিত, তবে পৃথিবী তার নিজের কক্ষপথ হারিয়ে সূর্যের দিকে এগিয়ে যেত এবং একসময় পুড়ে ছাই হয়ে যেত। মহাকাশের এই জটিল বিন্যাস প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বে আমাদের টিকে থাকাটা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক নিখুঁত মহাজাগতিক হিসেব-নিকেশ।