সলমন খান তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন। রোমান্টিক হিরো থেকে শুরু করে অ্যাকশন-ড্রামা, সব ঘরানার ছবিতেই তিনি সফল। কিন্তু তিনি নাকি আজ পর্যন্ত কোনও সিনেমার 'স্ক্রিপ্ট' বা চিত্রনাট্য পড়ে দেখেননি। সম্প্রতি নিজের অভিনয় জীবন নিয়ে এমনই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন বলিউডের ভাইজান। যা শুনে রীতিমতো তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন অনুরাগীরা। 

ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া-র একটি মাস্টারক্লাস সেশনে আলাপচারিতার সময় সলমন স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি খাতা-কলমে লেখা বড় বড় চিত্রনাট্য পড়ার চেয়ে পরিচালকদের মুখে সরাসরি সিনেমার গল্প বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর মতে, কোনও চিত্রনাট্য নিজে পড়ার চেয়ে যখন ছবির পরিচালক বা লেখক সেটি নিজের আবেগ দিয়ে মুখে বর্ণনা করেন, তখন সেই চরিত্রের গভীরতা এবং সিনেমার আসল মেজাজটি অনেক বেশি সহজে বোঝা যায়। 

গল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে সলমনের একটি নিজস্ব ফর্মুলা রয়েছে। তিনি জানান, কোনও পরিচালক যখন তাঁকে সিনেমার গল্প শোনাতে আসেন, তখন প্রথম দুই মিনিটের মধ্যেই তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন যে ছবিটি তিনি করবেন কিনা। যদি প্রথম দুই মিনিটে পরিচালকের বলা কথা বা ভাবনা তাঁর মন ছুঁয়ে যায়, তবেই তিনি পুরো গল্পটি শোনেন এবং ছবিটির জন্য রাজি হন। 

সলমন বেশ মজার ছলে জানান, তিনি চিত্রনাট্য পড়া শুরু করলেই নাকি অল্প সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন। লিখিত শব্দের চেয়ে মানুষের কণ্ঠস্বর এবং মুখের অভিব্যক্তি তাঁকে বেশি টানে। তিনি মনে করেন, একজন পরিচালক যখন গল্প বলেন, তাঁর চোখের ভাষা এবং বলার ধরন দেখেই বোঝা যায় সিনেমাটি কতটা ভাল হতে চলেছে।

সাক্ষাৎকারে সলমনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে তিনি ছবি স্বাক্ষর করার সময় কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন? উত্তরে তিনি জানান, স্টারডম, বড় বাজেট বা দুর্দান্ত লোকেশন নয়, তাঁর কাছে সিনেমার গল্প এবং পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গিই শেষ কথা। গল্প শোনার সময় যদি তাঁর মনে হয় এই সিনেমাটি দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি একটি ভাল বার্তা দেবে, তবেই তিনি সেই প্রজেক্টে যুক্ত হন। 

কোনও লিখিত চিত্রনাট্য না পড়েও সলমন খান কীভাবে 'বাজরাঙ্গি ভাইজান', 'সুলতান' বা 'টাইগার'-এর মতো স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করলেন, তা ভেবে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। তবে ভাইজান মনে করেন, অভিনয়টা ভেতর থেকে আসে। পরিচালকের সঙ্গে মানসিক যোগাযোগ এবং সেটের তাৎক্ষণিক পরিবেশই তাঁকে সেরা পারফরম্যান্স দিতে সাহায্য করে।