বলিউডের ‘নবাব’ সইফ আলি খান তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে একের পর এক ছকভাঙা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। কিন্তু অনেকেই হয়তো মনে রাখেননি যে, সইফ একসময় বলিউডের অন্যতম বৃহত্তম এবং সফল প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন। ২০০৯ সালে দীনেশ ভিজনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ইলুমিনাতি ফিল্মস’। ‘লভ আজ কাল’, ‘ককটেল’-এর মতো বক্স অফিস কাঁপানো সুপারহিট ছবি উপহার দেওয়ার পর হঠাৎ করেই সেই লাভজনক প্রযোজনা সংস্থা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন সইফ। কিন্তু কেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই গোপন কারণটিই খোলসা করলেন অভিনেতা।

সাক্ষাৎকারে সইফ আলি খান তাঁর প্রযোজক জীবন এবং ‘ইলুমিনাতি ফিল্মস’ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। ওঁর ভাষায়, “আমার মনে হয় ছবি প্রযোজনা বা প্রডিউস করার কাজটা অত্যন্ত অকৃতজ্ঞের মতো। তবে হ্যাঁ, কাজটা ভীষণ ক্রিয়েটিভ। একটা ভাবনাকে মাথায় আনা, তারপর সেটার সাউন্ড, লুক এবং ক্রিয়েটিভ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করার আইডিয়াটা আমি খুব এনজয় করতাম। আমি প্রযোজনা উপভোগ করেছি ঠিকই, তবে একই সঙ্গে এটা একটা মস্ত বড় মাথাব্যথা এবং যন্ত্রণারও কারণ ছিল।”

সইফের সঙ্গে ‘ইলুমিনাতি ফিল্মস’ শুরু করলেও, পরবর্তীতে দীনেশ ভিজন নিজের আলাদা ব্যানার ‘ম্যাডক ফিল্মস’ তৈরি করেন এবং আজ তিনি ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শীর্ষ প্রযোজক। মজার বিষয় হল, দীনেশ ভিজন এই মুহূর্তে সইফ-দীপিকা অভিনীত ২০১২ সালের কাল্ট হিট ছবি ‘ককটেল’-এর সিক্যুয়েল ‘ককটেল ২’  তৈরি করছেন, যেখানে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন শাহিদ কাপুর, কৃতি স্যানন এবং রশ্মিকা মন্দানা।

দীনেশের এই উত্থান ও বিচ্ছেদ নিয়ে সইফ বলেন,“সময় বদলায়, মানুষও এগিয়ে যায়। এটা সব জায়গাতেই ঘটে। দীনেশ আজ একজন চমৎকার এবং সফল প্রযোজক হয়ে উঠেছে, এটা ভেবে খুব ভাল লাগে। আমাদের একটা সুন্দর সময় ছিল, আমি সেই সময় দারুণ কাজ করেছি এবং এর পেছনে তৎকালীন ‘ইরোস’ -এর একটা বড় ভূমিকা ছিল। ওটা একটা দারুণ সুযোগ ছিল আমাদের জন্য। তবে কিছু কিছু জিনিস ততদিনের জন্যই স্থায়ী হয়, যতদিন তাদের আয়ু থাকে।”

 

২০০৯ সালে পথচলা শুরু করার পর মাত্র কয়েক বছরেই একগুচ্ছ কাল্ট ও সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছিল সইফের এই ব্যানার-

লভ আজ কাল (২০০৯): সইফ-দীপিকা অভিনীত এই রোমান্টিক ড্রামাটি ছিল বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার।

ককটেল (২০১২): আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে তৈরি এই ছবি আজও তরুণ প্রজন্মের ভীষণ প্রিয়।

গো গোয়া গন (২০১৩): ভারতীয় সিনেমার প্রথম ‘জম্বি-কমেডি’, যা আজ একটি কাল্ট ক্লাসিকের তকমা পেয়েছে।

২০১৪ সালে ‘হ্যাপি এন্ডিং’ ছবিটির পর এই ব্যানার থেকে আর কোনও ছবি প্রযোজনা করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে ‘জওয়ানি জানেমন’ ছবির মাধ্যমে সইফ কেবল একবারের জন্যই সহ-প্রযোজকের ভূমিকায় ফিরেছিলেন।


প্রযোজনার ঝক্কি সামলানোর চেয়ে সইফ যে অভিনয়েই বেশি স্বচ্ছন্দ ও সফল, তার প্রমাণ মিলল ওঁর সদ্য মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্স অরিজিনাল ছবি ‘কর্তব্য’-তে। শাহরুখ খানের প্রযোজনা সংস্থা ‘রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট’ দ্বারা নির্মিত এই ক্রাইম-কপ ড্রামাটি গত ১৫ মে, ২০২৬ থেকে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে এবং মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের পাশাপাশি সমালোচকদের কাছ থেকেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়োচ্ছেন সইফ।

প্রসঙ্গত, ‘কর্তব্য’-তে সইফের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত সমালোচকরা। তাঁদের মতে, নেটফ্লিক্সের ‘সেক্রেড গেমস’-এ একজন সৎ অথচ বিপর্যস্ত শিখ পুলিশ অফিসার ‘সরতাজ সিং’ হিসেবে তিনি সমালোচক ও দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন— যার একটা বড় ঝলক এবার ‘কর্তব্য’ ছবিতেও দেখা গেল। এখানে ওঁর চরিত্রটি একজন অত্যন্ত সৎ এবং শিবের পরম ভক্ত, যে নিজের আদর্শের সাথে কোনও আপস করে না। সইফ দিন দিন আরও অনবদ্য হয়ে উঠছেন।

প্রযোজনার কাঁটাভরা রাস্তা ছেড়ে সইফ এখন ওঁর অভিনয়ের সেকেন্ড ইনিংসে মগ্ন, আর ‘কর্তব্য’ ছবির সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে— ‘নবাব’ আসলে ক্যামেরার পেছনের চেয়ে ক্যামেরার সামনেই সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল!