আর ডি বর্মণ-এর জনপ্রিয় আটটি গানকে থিম করে এবার বাংলা সিনেমায় ফিরছে মিউজিক্যাল রোম্যান্স। আশিস কুমার পরিচালিত নতুন ছবি 'ফিরে এসো অনুরাধা'-র হাত ধরে পর্দায় ফিরবে নস্টালজিক সুর। ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে রাহুল, দেব ও বর্মণ, এই তিন বন্ধুকে কেন্দ্র করে। তারা যেমন একই শহরে বড় হয়েছে, তেমনই তারা তিনজনেই আরডি বর্মনের অন্ধ ভক্ত। কিন্তু বন্ধুত্বের সমীকরণ বদলে যায় 'অনুরাধা'র জন্য। তিন বন্ধুই অনুরাধার প্রেমে পড়ে যায়। এই চরিত্রে রয়েছেন অঙ্গনা রায়। রাহুল-এর চরিত্রে দেখা যাবে নীল ভট্টাচার্যকে।দেব-এর চরিত্রে অভিনয় করবেন আদৃত। বর্মণ-এর চরিত্রে থাকছেন জন। ছবিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন রাইমা সেন। আরডি বর্মনের আইকনিক গান 'মনে পড়ে রুবি রায়'-এর সেই রুবি রায়ের আদলেই তৈরি হয়েছে রাইমার চরিত্রটি। এছাড়াও একটি বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুকে। 

 

বৃহস্পতিবার হয়ে গেল ছবির মহরৎ। এনটিওয়ান স্টুডিওতে এদিন একসঙ্গে হাজির ছিলেন ছবির চার মুখ্য চরিত্র আদৃত, জন, অঙ্গনা ও‌ নীল। এদিন সামনে এল ছবির প্রথম পোস্টারও। পরিচালক আশিস কুমার ছবির ভাবনা প্রসঙ্গে বলেন, "আমার মাথায় সবসময় কিছু না কিছু চলে। যে কোনও পরিস্থিতি নিয়ে ছবি তৈরি করার ভাবনা চলে আসে। এই প্রথমবার আর ডি বর্মণ-এর সমস্ত জনপ্রিয় গানের অরিজিনালস নিয়েই তৈরি হচ্ছে ছবি। যদিও দুটো অন্যান্য গান থাকছে, দায়িত্বে আছেন শিলাদিত্য সোম। ছবির জন্য জনপ্রিয় অথচ তরুণ প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রয়োজন ছিল। যে চারজন অভিনয় করছেন মুখ্য চরিত্রে, তাঁরা একদম যথাযথ।"

 

একজন নয়, এবার তিন নায়কের সঙ্গে রোম্যান্স করবেন অঙ্গনা? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে হেসে উঠলেন অভিনেত্রী। বললেন, "সেটা তো সময়ই বলবে। তবে এই চরিত্রটা, এই ছবিটা আমার কাছে বড্ড স্পেশাল। আমি মিউজিক্যাল পরিবার থেকে বড় হয়েছি। আর ডি বর্মণ-এর গান ছোট থেকেই শুনছি। দাদুর বয়স ৯২ বছর, এই ছবির কথা শুনে খুব খুশি হয়েছেন। আজ আসার কথা ছিল, কিন্তু শারিরীক অসুস্থতা আর এখন এত গরমের জন্য নিয়ে আসতে পারিনি। এখানে একটা দারুণ বিষয় হল, এখানে দুটো সময়কাল দেখানো হবে। তার জন্য ওয়ার্কশপ করেছি আমরা। এই ছবিটা এক কথায় বলা যেতে পারে, আর ডি বর্মণকে দেওয়া আমাদের পক্ষ থেকে একটা মিউজিক্যাল লাভ লেটার।"

 

নীল ভট্টাচার্যর কথায়, "আমি তো ছোট থেকেই আর ডি বর্মণ-এর ভক্ত। এই ছবিটার প্রস্তাব যখন আসে, দু'বার ভাবিনি রাজি হয়ে গিয়েছি। আমাকে যে এমন একটা চরিত্রে ভাবনা হয়েছে, সেটা ভেবেই খুব ভাল লাগছে। এখানে চারজন ছেলেমেয়ের জীবনের ওঠাপড়া দেখানো হবে। প্রেমে পড়া থেকে প্রেম হারানো সবটাই সুরের খেলায় বাঁধা হবে।" 

 

আদৃত রায় বলেন, "বড়পর্দায় এরকম একটা চরিত্র পাওয়া খুব বড় ব্যাপার। গান তো আমার জীবনে বিরাট জায়গা জুড়ে রয়েছে। তাই এই ছবিটা শুরুর আগেই খুব এক্সাইটেড।"

 

জন ভট্টাচার্যের কথায়, "ছোট থেকেই গানের পরিবেশেই বেড়ে উঠেছি। বাবা-মা খুব খুশি হয়েছেন এই ছবির প্রস্তাব আমার কাছে আসতে। আমিও শুধু বিষয়টা শুনেই রাজি হয়ে গিয়েছি। একদম নাচে-গানে-রোম্যান্সে ভরপুর ছবি হতে চলেছে এটা। সঙ্গে আবার আর ডি বর্মণ-এর সুর।এই ছবিটার মাধ্যমে দর্শককে দারুণ কিছু উপহার দিতে পারব বলে আশা করি।"