দীপিকার ৮ ঘণ্টার শিফট বিতর্কের মাঝেই রণবীরকে উদাহরণ রাজকুমার হিরানির, ‘ভোর ৩টেয় সেটে পৌঁছে যেত’. বলিউডে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজের সময় নিয়ে বিতর্ক চলছেই।  দীপিকা পাড়ুকোনের ৮ ঘণ্টার কাজের দাবি ঘিরে যখন নানা মহলে পক্ষে বিপক্ষে তর্ক বিতর্ক চলেছে। এই অবস্থায় পরিচালক রাজকুমার হিরানির একটি মন্তব্য নতুন করে সেই বিতর্ককে উসকে দিল।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হিরানি তাঁর সুপারহিট ছবি সঞ্জু-র শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি জানান, সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রণবীর কাপুরকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে মেকআপ করতে হত। সেই কারণেই ভোর ৩টের মধ্যেই তিনি সেটে পৌঁছে যেতেন। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলত মেকআপ, ভোররাতে উঠে আসতেন বলেই সকাল ৭টার মধ্যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকেন।

হিরানির কথায়, একজন অভিনেতা যখন চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং ছবির গুরুত্ব বোঝেন, তখন তিনি অতিরিক্ত পরিশ্রম করতেও পিছপা হন না। তাঁর মতে, ছবি নির্মাণ একটি দলগত কাজ। তাই কখনও কখনও শিল্পীদেরও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের সময় ও পরিশ্রম অতিরিক্ত দিতে হয়। তিনি বলেন, ভাল অভিনেতারা জানেন কখন একটি কাজের স্বার্থে বাড়তি দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন।

যদিও পরিচালক কোথাও দীপিকা পাড়ুকোনের নাম নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করেননি, তবে তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ৮ ঘণ্টার শিফট নিয়ে গোটা ইন্ডাস্টিতে তুমুল আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মাতৃত্বের পর কাজে ফেরার ক্ষেত্রে সীমিত সময়ের শিফট চাওয়াকে কেন্দ্র করে দীপিকাকে নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই অনেকেই হিরানির বক্তব্যকে বর্তমান বিতর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

তবে হিরানির বক্তব্যের মূল সুর ছিল পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। তাঁর মতে, প্রতিটি ছবির চাহিদা আলাদা। কখনও কোনও চরিত্রের জন্য দীর্ঘ সময় মেকআপ লাগে, কখনও কঠিন লোকেশনে শুটিং করতে হয়। সে ক্ষেত্রে শিল্পীদেরও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়।

প্রসঙ্গত, সঞ্জু ছবিতে রণবীর কাপুরের অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। সঞ্জয় দত্তের বিভিন্ন বয়স ও চেহারার রূপ ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে একাধিক জটিল লুক ক্রিয়েট করতে হয়েছিল৷ সেই কারণে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেকআপ করতে হত৷  সেই কঠোর পরিশ্রমের কথাই আবার সামনে এনে রণবীরের পেশাদার মনোভাবের প্রশংসা করেছেন রাজকুমার হিরানি।