পুনের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলকে নিয়ে এখন উত্তাল গোটা দেশ। এই আবহে জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢাললেন জনপ্রিয় বলিউড পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তা। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর রিয়া চক্রবর্তী যে মারাত্মক 'মিডিয়া ট্রায়াল'-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন, তার সঙ্গে সিয়া গোয়েলের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে সমাজমাধ্যমে তীব্র ট্রোলিং ও ক্ষোভের মুখে পড়লেন হৃতিক রোশনের ছবি ‘কাবিল’-এর পরিচালক।

লোনাভালার লোহাগড় দুর্গের খাদ থেকে ফেলে দিয়ে হবু বর কেতন আগরওয়ালকে খুনের অভিযোগে আপাতত পুলিশের জালে সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী। সিয়াকে নিয়ে যখন মূলধারার মিডিয়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাছেঁড়া চলছে, ঠিক তখনই এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন সঞ্জয় গুপ্তা।

তিনি লেখেন, “কারও বিচার করছি না। কারও পক্ষও নিচ্ছি না। শুধু বলছি— রিয়ার সঙ্গে আমরা যা করেছিলাম, দয়া করে সিয়ার সঙ্গেও কি সেটা করা বন্ধ করতে পারি না? আমরা সবাই সেই সার্কাস দেখেছি। টেলিভিশনের সেই ট্রায়াল দেখেছি, যেখানে প্রমাণ মেলার আগেই রায় ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা কোনওদিন শিখব না।”

পরিচালকের এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের তীব্র রোষের মুখে পড়ে। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর ২০২০ সালে রিয়া চক্রবর্তী যেভাবে মিডিয়া ট্রায়াল ও ড্রাগস মামলায় গ্রেফতারির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তার সঙ্গে একজন প্রত্যক্ষ খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্তের তুলনা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।


সঞ্জয় গুপ্তার এই তুলনাকে সরাসরি ‘যুক্তিহীন’ এবং সস্তা প্রচার পাওয়ার চেষ্টাবলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। এক ক্ষুব্ধ নেট ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সিয়ার সঙ্গে রিয়ার তুলনা...বাপরে! কীসের দুঃসাহস আপনার?” অন্য একজন লিখেছেন, “ এই দু’টো ঘটনার তুলনা হয় কীভাবে স্যার? নতুন কোনও তথ্য মিস না করে থাকলে, সিয়া তো নিজেই ক্রাইম সিন-এ উপস্থিত ছিল যখন তার হবু বরকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলা হয়!” কেউ কেউ আবার সরাসরি পরিচালককে বিঁধে লিখেছেন, “মাঝে মাঝে আপনি তর্কের সবচেয়ে অযৌক্তিক দিকটা বেছে নেন। কার চোখে নিজেকে মহান প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন?”

প্রসঙ্গত, ২৫ বছর বয়সী পুনের নামি ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে গত ১৮ই জুন লোহাগড় দুর্গে ট্র্যাকিংয়ে নিয়ে গিয়ে খাদে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সিয়া ও চেতনের বিরুদ্ধে। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা হলেও, পুলিশি তদন্তে উঠে আসে ঠান্ডা মাথার খুনের চক্রান্ত। জানা গেছে, সিয়ার অমতেই এই বিয়ে ঠিক হয়েছিল এবং এর আগেও কেতনকে মারার একটি ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল এই প্রেমিক যুগল। এমনকি এই মামলায় সিয়ার পরিবার ও তাদের আইনজীবীর মধ্যেও কোটি টাকার মানহানির মামলা নিয়ে নতুন নাটক শুরু হয়েছে।

আজকের সচেতন ও গ্লোবাল কন্টেন্ট দেখা দর্শক খুব ভাল করেই বোঝেন অপরাধের তদন্ত আর মিডিয়া সার্কাসের ফারাক। তাই রিয়া চক্রবর্তীর ট্র্যাজেডিকে টেনে এনে একজন হাই-প্রোফাইল খুনের আসামিকে আড়াল করার এই ‘বলিউডি চেষ্টা’ আমজনতার ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।