গানের রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ থেকেই অদিতি মুন্সীর খ্যাতি পরিচিতি৷ ২০১৫ সালে 'সারেগামাপা'র মঞ্চে কীতর্ন গানের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করেছিলেন অদিতি মুন্সী৷ অদিতির সহপ্রতিযোগী ছিলেন সৌম্য চক্রবর্তী। ২০১৫ সালে 'সারেগামাপা'য় সেরার সেরা ( চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন) হয়েছেন সৌম্য। গতকাল আজকাল ডট ইন-এ সঙ্গীতশিল্পী সৌম্য চক্রবর্তী অদিতি মুন্সী সম্পর্কে বলেন, " একাধিক প্রেমিক বদলেছে। যে ওকে 'সারেগামাপা'য় ঢুকতে সাহায্য করেছিল, অডিশন দেওয়ানো বা অন্য সমস্ত ভাবে সাহায্য করেছিল, তাকে জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। আমাদের যে স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিলেন তাঁকে ধরে ভেবেছিল যে জিতে যাবে।... গান গায় ভুল উচ্চারণে। আগে সেটা ঠিক করুক।... নিজের গায়কী সম্পর্কে কোনও জ্ঞান নেই। সঙ্গীত কী সেই সম্পর্কে যার কোনও জ্ঞান নেই,... ওর শিক্ষা নিয়ে আমার সমস্যা আছে। ও কতটা শিখেছে, সেটা জানতে চাই।"
রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে কি সত্যিই ব্যক্তিগত পরিচিতি বা প্রভাব খাটিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল দুর্নিবার সাহা, দীপন মিত্র এবং শোভন গাঙ্গুলির সঙ্গে।
২০১৫ সালে জি বাংলা সারেগামাপা-তে অংশগ্রহণ করেছিলেন দীপন মিত্র৷ রাগসঙ্গীত বা ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক গ্রুপ থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন দীপন মিত্র৷ দীপন বলেন, "আমি এই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইনি৷ বিতর্ক নিয়েও কিছু জানি না। কিন্তু এই অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে তো সৌম্য চক্রবর্তী চ্যম্পিয়ন হত না৷ অদিতি মুন্সী চ্যাম্পিয়ন হত, কিন্তু অদিতি চ্যাম্পিয়ন হয়নি৷ সেই সিজনে চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সৌম্য। আমরা প্রত্যেকে এক একটা গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম৷ আমি ক্ল্যাসিক্যাল, তুলিকা-গঙ্গাধর ফোক, দুর্নিবার লাইট মিউজিক। সারেগামাপাতে অদিতি কেবল ফাইনালিস্ট ছিলেন৷"
অদিতির সঙ্গে সেই বছর জি বাংলা 'সারেগামাপা'য় প্রতিযোগী ছিলেন দুর্নিবার সাহা৷ দুর্নিবার বলেন, " একটা রিয়েলিটি শো একটা চ্যানেল যখন অর্গানাইজ করে, তখন প্রতিযোগীরা ওই রিয়েলিটি শো-এর প্রোডাক্ট। তাই একজন প্রতিযোগীর ক্রাফট এবং প্রেসেন্টেশন ( শিল্পগুণ এবং উপস্থাপনা) সবটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভাল গান গেয়েও কেউ প্রভাব ফেলতে পারেন৷ একটা রিয়েলিটি শো-তে শুধু ভাল গান গাইলাম বা ভাল নাচ করলাম এটা দিয়ে হয় না, আরও অনেকগুলো ফ্যাক্টর থাকে৷ কথাবার্তা, সহশিল্পীর সঙ্গে আচরণ, বিচারকদের প্রতি সম্মান সবটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাড়িতে বাবা মায়ের উপর রাগ করে যা খুশি তাই বললেও স্কুলে ফার্স্ট বয় হলেও যা খুশি বলা যায় না৷ মানুষ হিসাবে ভাল হওয়াটা যথেষ্ট দরকার। তবে আমি প্রত্যক্ষভাবে কাউকে দেখিনি অন্য কোনও রকম প্রভাব খাটিয়ে কিছু করতে৷ আমার চোখের সামনে কেবল আমি এবং আমার গান আর আমার শিক্ষকদের পরামর্শ এটুকুই ছিল আমার কাছে একমাত্র বাস্তব৷"
শোভন গাঙ্গুলি বলেন, " ব্যক্তিগতভাবে আমার এরকম কোনও অভিজ্ঞতা নেই৷ যে রিয়েলিটি শোয়ের কথা বলা হচ্ছে সেখানে এরকম ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে কিছু হয় না৷ সেখানে গান গাওয়ার দক্ষতা এবং শ্রোতাদের ভাললাগাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়৷ এই কথার তো কোনও ভিত্তি নেই৷ কারও সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক যদি হয়ও তার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মঞ্চে এগিয়ে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই৷ আর কে গান গাইতে পারে কে পারে না এটা তো ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে৷ আমার তো মনে হয় না অদিতি এতটাও খারাপ গান করেন, যে মঞ্চে গান গেয়ে ও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সেই মঞ্চে মানুষজন ওর গান পছন্দ করেছে৷ এমন তো নয় যে ওর গান জোর করে মানুষকে শোনানো হয়েছে৷ পছন্দ না করলে মানুষ তো এতদিন ধরে অদিতির গান শুনতেন না, অদিতিও গায়িকা হিসাবে টিকে থাকতে পারত না৷ কেউ ভাল গাইছেন না তবুও মানুষ তাকে পছন্দ করছেন এমনটা তো হয়না৷ "















