চেক বাউন্স মামলায় স্বস্তি না পেয়ে বৃহস্পতিবার দিল্লির তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন অভিনেতা রাজপাল যাদব। দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ করার পরই এই পদক্ষেপ করেন তিনি। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ তিনি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আপাতত নিয়ম অনুযায়ী যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বুধবার দিল্লি হাই কোর্ট রাজপাল যাদবের আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়াতে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে। অভিনেতার আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল ৫০ লক্ষ টাকা জোগাড় করেছেন এবং বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় চান। উল্লেখ্য, ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু সেই আবেদন শুনে আদালত জানায়, সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কেবলমাত্র কেউ নির্দিষ্ট কোনও পটভূমি বা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত, এই কারণে আদালত কোনও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে না। সহানুভূতি কখনও কখনও প্রয়োজন হলেও, বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য হলে অনির্দিষ্টকাল ছাড় দেওয়া যায় না।

এই মামলার সূত্রপাত এম/এস মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের করা অভিযোগ থেকে। সংস্থার দাবি, রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীর দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স হয় এবং প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে দিল্লির একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে অভিনেতাকে ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। ২০১৯ সালে সেশন কোর্টেও সেই রায় বহাল থাকে।

এরপর দিল্লি হাই কোর্টে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন যাদব দম্পতি। ২০২৪ সালের জুন মাসে হাই কোর্ট সাময়িকভাবে সাজা স্থগিত রেখে অভিনেতাকে ‘সৎ ও আন্তরিক উদ্যোগ’ নেওয়ার পরামর্শ দেয়। অভিযোগকারীর সঙ্গে মীমাংসার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যায়। তবে আদালতের মতে, একাধিকবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় শেষ পর্যন্ত ২ ফেব্রুয়ারি রাজপাল যাদবকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাজপাল বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্রাভিনেতা। মূলত কমেডি ভূমিকায় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। ছোটখাটো চেহারা আর অনবদ্য টাইমিংকে হাতিয়ার করে তিনি ‘হেরা ফেরি’, ‘ভুলভুলাইয়া’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ভাগম ভাগ’সহ অসংখ্য ছবিতে স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন। তবে কমেডির তাঁর সংবেদনশীল অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি প্রমাণ করেছেন, হাস্যরসের আড়ালেও একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন তিনি। তবে আইনি জটিলতায় পড়ে আপাতত বিপাকে অভিনেতা।