আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে ভারত। দেশীয় প্রযুক্তি এবং আমদানি করা প্রযুক্তির সংমিশ্রণে সেই কাজ এগিয়ে চলেছে। রাশিয়ার এস-৪০০ এবং দেশে তৈরি আকাশ মিসাইল সিস্টেম ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। সারা দেশে বায়ু প্রতিরক্ষা সুরক্ষা জোরদার করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ চলছে।
এই প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল ‘কালি’ (KALI)। দীর্ঘদিন ধরে গোপন গবেষণার অংশ এই প্রকল্পটি ‘নির্দেশিত শক্তি প্রযুক্তি’র উপর কাজ করছে। ‘কিলো অ্যাম্পিয়ার লিনিয়ার ইনজেক্টর’ (Kilo Ampere Linear Injector)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ কালি। এটি একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রন অ্যাক্সিলারেটর, যা প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা উচ্চ-শক্তির রশ্মি এবং উচ্চ-ক্ষমতার মাইক্রোওয়েভের সামরিক প্রয়োগ পরীক্ষা করে দেখার জন্য তৈরি করেছেন।
ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনস (DEW)-কে ভবিষ্যতের যুদ্ধের একটি মূল উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যার মধ্যে লেজার এবং মাইক্রোওয়েভ-ভিত্তিক সিস্টেমও রয়েছে। এগুলি প্রচলিত অস্ত্রের মতো নয়, এই অস্ত্রগুলিকে শত্রু পক্ষের ইলেকট্রনিক সিস্টেমকে অকেজো করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
১৯৮৫ সালে ‘কালি’ তৈরি শুরু করে ভারত। প্রথমে এর কর্মক্ষমতা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানানো হয়নি। শিল্পের প্রয়োজনে ভারত নতুন প্রযুক্তির লিনিয়ার ইনজেক্টর তৈরি করছে বলে জানানো হয়েছিল। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে কালির অন্তর্ভুক্তি হওয়ার পর গোটা বিশ্বের টনক নড়ে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশেই ঝলসে দেওয়ার অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে ভারত। মার্ক্স জেনারেটরের মতো বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ইলেকট্রন কণার শ্রোতকে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ পালসে রূপান্তরিত করা যায়। নানা সূত্র অনুযায়ী, এই সিস্টেমটির একাধিক সংস্করণ রয়েছে, যার মধ্যে কালি-৫০০০ এবং কালি-১০০০০ রয়েছে। প্রতিটি সংস্করণ অপরটির চেয়ে শক্তিশালী।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের সিস্টেম আধুনিক যুদ্ধবিমানের ইলেকট্রনিক্স, যার মধ্যে রাডার সিস্টেম, অ্যাভিওনিক্স এবং ফ্লাইট-কন্ট্রোল কম্পিউটারকে অকেজো করে দিতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উন্নত স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলি উচ্চ-ক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ আক্রমণে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে, কার্যরত যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে কালি-কে পরীক্ষা করার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এটি কোনও সামরিক মহড়া বা সংঘাতেও ব্যবহৃত হয়নি। অনেকের দাবি, চিনও একই প্রযুক্তির উপর কাজ করছে।
অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, কালি সিস্টেমটি কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধ। জানা গিয়েছে, এর বড় সংস্করণগুলি ভারী, এক জায়গায় স্থির থাকে, প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং এগুলিকে ঠান্ডা রাখতে খরচ অনেক। এগুলির পাল্লা সীমিত, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত দ্রুতগতির লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এটি কম উপযোগী। এছাড়াও, দু’টি পালসের মধ্যবর্তী রিচার্জের সময় অনেক বেশি। বিজ্ঞানীরা এই অস্ত্রটিকে আরও সচল এবং আরও কার্যকরী করা বিষয়ে কাজ করে চলেছেন।
