সিনেমার জগতে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শতবর্ষ কাটিয়ে ফেলেছেন, আজও তাঁর রেশ সযত্নে লালন করছে বাঙালি। তাঁর ছবি নিছক বিনোদন নয়, সামাজিক বাস্তবতার আর্কাইভ। এক যুগের চলচ্চিত্র ইতিহাসের নির্মাতা মৃণাল সেন। এবার সেই প্রবাদপ্রতিম পরিচালকের জীবনের অমূল্য স্মৃতি স্থায়ী ঠিকানা পেল কলকাতায়। তাঁর দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের সার্টিফিকেট, অসম্পূর্ণ চলচ্চিত্র ‘ভুবনেশ্বরী’-এর মূল স্ক্রিপ্ট, ব্যক্তিগত চিঠি, ছবি ও গীতা সেনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র-সবই থাকবে আর্কাইভে। 

বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে শিকাগোতে থাকেন মৃণাল সেনের ছেলে। গত রবিবার তিনি পরিচালকের এই সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র কলকাতার জীবনস্মৃতি আর্কাইভে দান করেন। এই আর্কাইভে একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করা হয়েছে যেখানে শিল্পী ও চলচ্চিত্র সম্পর্কিত মূল্যবান স্মৃতিসামগ্রী সংরক্ষণ করা হবে।

সল্টলেকের করুণাময়ী অঞ্চলে আর্কাইভের অন্যা থিয়েটার ভবনে রয়েছে  বিশেষ আর্কাইভ। পরিচালকের যেসব জিনিসপত্র দান করা হয়েছে তা হল গীতা সেনের ভোটার আইডি কার্ড, শাল, গয়, ব্যক্তিগত ডায়েরি, বিভিন্ন ছবি ও সিনেমার স্ক্রিপ্ট। এছাড়া মৃণাল সেনের পুরনো চিঠি, ব্যক্তিগত নোট ও সিনেমার ফটোগ্রাফও আর্কাইভে রাখা হবে। পরিচালকের বাড়ি থেকে প্রায় ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিসামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আর্কাইভের বিশেষত্ব হল এখানে সিনেপ্রেমীরা সরাসরি এসে মৃণাল সেনের জীবনের বিশেষ স্মৃতি চাক্ষুষ করতে পারবেন। যা শুধু চলচ্চিত্র ইতিহাস সংরক্ষণ নয়, একইসঙ্গে কলকাতার বিনোদন ও সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কীভাবে ১৯৭০–৮০-এর দশকে বাংলা সিনেমা নির্মাণ করা হত, পরিচালক ও অভিনেতাদের ব্যক্তিগত সংগ্রাম কেমন ছিল এবং একটি সিনেমার পিছনের গল্প কীভাবে গড়ে উঠত, এই সব কিছুই আর্কাইভে আনা জিনিসপত্রের মাধ্যমে জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। যা নিঃসন্দেহে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।