সম্প্রতি তিহার জেল থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছাড়া পেয়েছেন রাজপাল যাদব। আগামী ১৮ মার্চ পর্যন্ত তিনি বাইরে থাকবেন। জেল থেকে বেরোনোর পর এদিন অবশেষে মুখ খুললেন রাজপাল যাদব। তিনি গোটা দেশকে এবং বলিউডের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর পাশে থাকার জন্য। একই সঙ্গে তিনি জেল কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।
বর্তমানে তিহার জেল থেকে বেরোনোর পর তাঁর গ্রামের বাড়ি শাহজাহানপুরে রয়েছেন রাজপাল। সেখান থেকেই তিনি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, জেলের ভিতর নির্দিষ্ট ধূমপান করার জায়গা থাকা উচিত। ঠিক যেমন রেলওয়ে স্টেশন বা বিমানবন্দরে থাকে। তাঁর মতে, জেলকে মানুষকে নতুন সুযোগ দেওয়ার, তাঁদের জীবনকে নতুন দিশা দেখানোর জায়গা বানানো উচিত, ফলে সেই মতো সমস্ত ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরি। তবে আইন তাঁদের জন্য কঠোর হওয়া উচিত যাঁরা নিজেদের বদলাতে চান না।
রাজপাল যাদব এদিন তাঁর কথায় বলেন, 'যে মানুষটা আদতে আগাপাশতলা ক্রিমিনাল নন তাঁকে বাইরে দিয়ে বিচার করা যায় না। বিশেষ করে সে যদি একবারের জন্য কোনও ভুল করে থাকেন। আমার আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায় আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত আইনি প্রশ্নের উত্তির দেবেন।'
আপাতত রাজপাল যাদব আগামী দু'দিন মিডিয়ার সঙ্গে কোনও কথা বলবেন না বলেও জানিয়ে দেন। তিনি আপাতত তাঁর বাড়ির একটি বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত আছেন। সকলের আর যা যা জিজ্ঞাসা আছে সেটা নিয়ে তিনি পরে একটি বিবৃতি দেবেন বলে জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্সের কেস চলছে। এই বিষয়ে তিনি নিজেই কিছুদিন আগে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিহার জেলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এই ঘটনার পর বলিউডের একাধিক তাবড় তাবড় অভিনেতা, শিল্পীরা তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। টাকা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছেন। কিন্তু কে কত টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন, ধার মিটিয়েছেন সেটা তাঁর স্ত্রী জানাননি। এমনকী এখনও এই বিষয়ে অভিনেতা নিজেও মুখ খোলেননি।
আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারীর কাছে ১.৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার পরই আদালত থেকে এই সাময়িক স্বস্তি মেলে অভিনেতার। ফলে ১১ দিন তিহার জেলে কাটানোর পর আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন রাজপাল। জানিয়ে রাখা ভাল, এই মামলাটি বহুদিনের আর্থিক বিরোধ ঘিরে। অভিযোগ, একটি ঋণ সংক্রান্ত চুক্তিতে বারংবার আদালতের নির্দেশ সত্বেও টাকাপয়সা শোধ করা হয়নি রাজপালের তরফে। যার জেরে শুরু হয় আইনি লড়াই। অভিনেতা মূলত একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতি চেয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করতে হয় রাজপালকে। দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর অতিরিক্ত সময় চাওয়ার আবেদন খারিজ করে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, আগের নির্দেশ বারবার অমান্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে, যখন তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘আতা পাতা লাপাতা’ বক্স অফিসে সশব্দে মুখ থুবড়ে পড়ার পর ঋণের অঙ্ক সুদে-আসলে প্রায় ৯ কোটিতে পৌঁছয় বলে দাবি।















