বর্তমানে স্বাস্থ্যবিমার বাজারে 'আনলিমিটেড কভার' শব্দটি খুবই জনপ্রিয়। টিভি, সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, এই ধরনের মেডিক্যাল পলিসি থাকলে বড় অসুখ বা দীর্ঘ চিকিৎসার খরচ নিয়েও আর চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু সত্যি কি তাই?
2
10
বাস্তবে এই 'আনলিমিটেড' সুবিধার মধ্যে লুকিয়ে থাকে একাধিক শর্ত। আর সেই কারণেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অনেক গ্রাহক সমস্যায় পড়েন।
3
10
বীমা বিশেষজ্ঞদের মতে, 'আনলিমিটেড কভার' মানেই যে সীমাহীন টাকা পাওয়া যাবে, এমনটা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেস কভার থাকে। যেমন ৫ লাখ বা ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা।
4
10
নির্দিষ্ট সেই টাকা শেষ হয়ে গেলে কোম্পানি আবার একই পরিমাণ কভার রিস্টোর করে দেয়। অর্থাৎ প্রথম থেকেই সীমাহীনভাবে টাকা ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞাপনে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয় না।
5
10
এছাড়াও রুম ভাড়ার সীমা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পলিসিতে হাসপাতালের রুমের জন্য নির্দিষ্ট খরচের সীমা বেঁধে দেওয়া থাকে। কিন্তু রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে পরিবারের লোকেরা সাধারণত ভাল কেবিন বা আইসিইউ বেছে নেন। তখন বীমা কোম্পানি পুরো খরচ বহন করে না।
6
10
শুধু রুম ভাড়া নয়, অন্যান্য চিকিৎসার খরচ থেকেও কেটে নেওয়া হয়। ফলে ক্যাশলেস সুবিধা থাকলেও শেষে রোগীর পরিবারকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।
7
10
আরও একটি বিষয় হল 'কো-পে'। অর্থাৎ চিকিৎসার একটি অংশ রোগীকেই বহন করতে হবে। ধরুন কোনও চিকিৎসার খরচ ২ লাখ টাকা। যদি পলিসিতে ২০ শতাংশ কো-পে থাকে, তাহলে ৪০ হাজার টাকা রোগীকেই দিতে হবে। বিশেষ করে বয়স্কদের স্বাস্থ্যবিমায় এই নিয়ম বেশি দেখা যায়।
8
10
অনেক সময় আবার কিছু নির্দিষ্ট রোগ বা অপারেশনের জন্য আলাদা সীমা থাকে। যেমন ক্যাটারাক্ট, হাঁটুর অপারেশন, ডেন্টাল চিকিৎসা বা আধুনিক রোবোটিক সার্জারির খরচ পুরোপুরি কভার করা হয় না। ফলে রোগীরা হয়তো ভাবেন যা খরচ হবে সবটাই বীমা দেবে, বাস্তবে তা হয় না।
9
10
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠছে 'ওয়েটিং পিরিয়ড' নিয়ে। আগে থেকে থাকা রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অর্থাৎ পলিসি নেওয়ার পরেই সেই রোগের জন্য দাবি করা যায় না।
10
10
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধুমাত্র 'আনলিমিটেড' শব্দ দেখে স্বাস্থ্যবিমা কেনা উচিত নয়। পলিসির নিয়ম, শর্ত, কো-পে, রুম রেন্ট লিমিট এবং কোন কোন রোগ বাদ দেওয়া হয়েছে- এসব ভালভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি। কারণ চিকিৎসার সময় ছোট একটি শর্তই বড় আর্থিক সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।