সুপারস্টার রজনীকান্ত মানেই পর্দা কাঁপানো এন্ট্রি আর ভক্তদের উন্মাদনা। কিন্তু জানেন, একবার হাজার হাজার মানুষের মাঝখানে দাঁড়িয়েও কেউ পাত্তাই দেয়নি এই মহাতারকাকে? সম্প্রতি নিজের জীবনের এমনই এক অবাক করা অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন থালাইভা।


ঘটনাটি ঘটেছিল বেঙ্গালুরুতে। অভিনেতা তখন খ্যাতির মধ্যগগনে। রজনীকান্ত জানান, একবার তিনি তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে গাড়িতে করে বেঙ্গালুরুর রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সিগন্যালে গাড়ি থামলে তিনি লক্ষ্য করেন পাশে একটি বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। অভিনেতা ভাবলেন, বাসের যাত্রীরা নিশ্চয়ই তাঁকে দেখে চিনতে পারবেন এবং উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠবেন।


নিজের ‘স্টারডম’ নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রজনীকান্ত। তিনি গাড়ির কাঁচ নামিয়ে বাসের যাত্রীদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়তে শুরু করেন। তিনি আশা করেছিলেন, থালাইভাকে চোখের সামনে দেখে বাসের ভেতর হইচই পড়ে যাবে, কেউ হয়তো চিৎকার করবে বা অটোগ্রাফ চাইবে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল, তা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।


রজনীকান্তের কথায়, বাসের কোনও যাত্রীই তাঁর দিকে ফিরেও তাকাননি। সকলে যে যার মতো নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কেউ জানলার বাইরে তাকিয়ে আছেন, কেউ ঝিমোচ্ছেন, কেউ বা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। বেশ কিছুক্ষণ হাত নাড়ার পরও যখন কেউ তাঁকে পাত্তাই দিল না, তখন রজনীকান্ত বুঝতে পারলেন যে তিনি আসলে কারও নজরেই পড়েননি।


এই ছোট্ট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি রজনীকান্তের মনে গভীর ছাপ ফেলে। তিনি বুঝতে পারেন, জনপ্রিয়তা বা খ্যাতি চিরস্থায়ী নয় এবং একজন মানুষ নিজেকে যতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, পৃথিবী সবসময় তাকে সেই চোখে দেখে না। অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেন, এই ঘটনাটি তাঁর বহুদিনের লালিত ‘ইগো’ বা অহংকারকে মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল।


রজনীকান্তের মতো একজন মহাতারকা যখন এমন অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন, তখন তা সাধারণ মানুষের কাছে এক বড় শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সাফল্যের শীর্ষে থেকেও নিজের ভুল বা দুর্বলতা স্বীকার করতে কোনও দ্বিধা থাকা উচিত নয়। এই বাস্তববোধই সম্ভবত তাঁকে পর্দার নায়ক থেকে সাধারণ মানুষের মনের মণিকোঠায় পৌঁছে দিয়েছে। অহংকার বর্জন করে বিনয়ী থাকাই যে প্রকৃত মহত্ত্বের লক্ষণ, রজনীকান্তের এই স্মৃতিচারণ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।