সাঁইথিয়া। বীরভূমের এই প্রাচীন শহরকে ঘিরে অনেক ইতিহাস রয়েছে। তেমনই এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক লৌকিক আখ্যান। বর্তমানে সেই ইতিহাসকে কেন্দ্র করেই পর্যটনের নতুন স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু এটি ‘নন্দীপুর’ থেকে কীভাবে ‘সাঁইথিয়া’ হয়ে উঠল, তা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই।
2
7
শহরবাসীর দাবি, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে নীলকর সাহেবদের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। স্থানীয় প্রবীণদের বয়ান অনুযায়ী, ময়ূরেশ্বরের রামনগরে ময়ূরাক্ষী নদী। তার উত্তর পাড়ে ছিল নীলকুঠি। নদী পেরিয়ে ঘোড়ায় চড়ে সাহেবরা যখন সিউড়ি বা সংলগ্ন এলাকায় কর আদায়ের জন্য যেতেন, তাঁদের বিশ্রামের ঠিকানা ছিল নন্দিকেশ্বরী মন্দির চত্বর।
3
7
শহরের নামবদল নিয়ে মূলত দুটি মত প্রচলিত রয়েছে।
4
7
কথিত আছে, ‘নন্দীপুর’ শব্দটি উচ্চারণ করতে সাহেবদের বেগ পেতে হতো। তাঁরা বলতেন ‘সাঁইথা’। সেই সাহেবি অপভ্রংশ থেকেই আজকের ‘সাঁইথিয়া’।
5
7
অন্য একটি মতে, স্থানীয় জমিদাররা পত্তনি নেওয়ার সময় এখানে ‘সাইত’ বা শুভ অনুষ্ঠান করতেন। সেই ‘সাইত’ থেকেই এলাকার নাম হয় ‘সাইতা’, যা কালক্রমে সাঁইথিয়ায় রূপান্তরিত হয়েছে।
6
7
সাঁইথিয়ার প্রাণকেন্দ্র সতীপীঠ নন্দিকেশ্বরী মন্দির। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর কণ্ঠের হাড় এখানে পড়েছিল। সেই সময় সেবাইতরাই এই মন্দিরের দেখভাল করতেন। তবে আশির দশকে ভোলবদল শুরু হয়। নারায়ণ প্রসাদ চন্দ্র, গৌরী প্রসন্ন দত্ত এবং মহেন্দ্র গুঁইয়ের মতো বিশিষ্টজনদের উদ্যোগে গঠিত হয় মন্দির সংস্কার কমিটি।
7
7
সেই শুরু। তারপর থেকে ধীরে ধীরে পাল্টে গিয়েছে মন্দিরের চালচিত্র। আজ সেই সংস্কারের রেশ টেনেই পর্যটন মানচিত্রে স্থায়ী জায়গা করে নিতে চাইছে এই প্রাচীন গঞ্জ। বাসিন্দাদের আশা, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিকতার মিশেলে আগামী দিনে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে তাঁদের প্রিয় সাঁইথিয়া।
ছবি: সংগৃহীত।