আর মাধবনের জীবনে সাফল্যের পিছনে স্ত্রী সরিতা বিরজের ভূমিকা অনস্বীকার্য, তা বারবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন অভিনেতা। সম্প্রতি তাঁদের দীর্ঘ দু'দশকের দাম্পত্য জীবনের শুরুর দিনগুলোর এক অজানা কাহিনী নতুন করে সমাজমাধ্যমে উঠে এসেছে। মজার বিষয় হল, রুপালি পর্দার রোমান্টিক হিরো মাধবন ও সরিতার সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল অনেকটা শিক্ষক-ছাত্রীর সমীকরণে।


ঘটনাটি নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ের। তখন মাধবন মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে 'পাবলিক স্পিকিং' ও 'কমিউনিকেশন স্কিল'-এর ক্লাস নিতেন। সরিতা তখন একজন ছাত্রী হিসেবে তাঁর কাছে কোর্স করতে আসতেন। মাধবনের ধৈর্য আর শেখানোর ধরণ সরিতার মন জয় করেছিল। তবে সেই সময়ে তাঁদের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা আর ছাত্রীর প্রতি পেশাদারিত্বের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁদের আলাপ।


মোড় ঘুরল কোর্স শেষ হওয়ার পর। সরিতা যখন বিমান সেবিকা হিসেবে চাকরি পেলেন, তখন মাধবনকে কৃতজ্ঞতা জানাতে একদিন ডিনারের আমন্ত্রণ জানান। মাধবন সেই নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে কোলাপুরের এক রেস্তোরাঁয় যান। সেই ডিনারই বদলে দেয় তাঁদের জীবন। মাধবন হাসিমুখে স্মৃতিচারণ করে জানান, সেই ডিনারের পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ পাল্টে যায় এবং তাঁরা একে অপরের প্রেমে পড়েন।


দীর্ঘ আট বছর প্রেমের পর ১৯৯৯ সালে তামিল রীতি মেনে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কাকতালীয়ভাবে, বিয়ের ঠিক পরেই মাধবনের কেরিয়ারে বড় সাফল্য আসে। মণি রত্নমের ‘আলাইপায়ুথে’ ছবির মাধ্যমে তিনি রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন। ২০০৫ সালে তাঁদের ছেলে বেদান্তের জন্ম হয়। বর্তমানে বেদান্ত একজন আন্তর্জাতিক মানের সাঁতারু হিসেবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন।


মাধবন সবসময়ই বলেন, তাঁর কঠিন সময়ে সরিতা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা অতুলনীয়। সাধারণ এক শিক্ষক ও ছাত্রীর সেই ডিনার আজ বলিউডের অন্যতম সফল এবং অনুপ্রেরণামূলক দাম্পত্যের উদাহরণ। বর্তমানে এই তারকা দম্পতি তাঁদের ছেলেকে সাধারণ মূল্যবোধে বড় করার পাশাপাশি নিজেদের কেরিয়ার ও সমাজসেবামূলক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। মাধবনের আসন্ন সিনেমা ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়েও অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।