গত বছর জুনে হঠাৎই বি-টাউন মারফত এসেছিল বিস্ফোরক খবর। মাত্র ৪২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছিলেন কাঁটা লাগা খ্যাত অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালা।  জানা গিয়েছে, এ দিন তিনি বাড়িতেই অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, শুক্রবার রাতেই স্বামী পরাগ ত্যাগী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু মিলে শেফালিকে মুম্বইয়ের বেলভিউ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি আগেই প্রাণ হারিয়েছেন। শেফালির সেই আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে এবার ফের জোর চাঞ্চল্য। সম্প্রতি এক পডকাস্টে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রয়াতা অভিনেত্রীর স্বামী পরাগ ত্যাগী। তিনি দাবি করলেন, শেফালির মৃত্যুর আগে তাঁর উপর কালো জাদু প্রয়োগ করা হয়েছিল! এমনটাই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। ‘’ 

 

ইউটিউবার ও রিয়ালিটি শো তারকা পরশ ছাবড়ার সঙ্গে এক দীর্ঘ আলাপচারিতায় পরাগ জানান, এই ধারণা তাঁর নিছক অনুমান নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভব থেকেই এসেছে। তাঁর কথায়, “অনেকেই এসব বিশ্বাস করেন না, কিন্তু আমি করি। যেখানে ভগবান আছেন, সেখানে শয়তানও আছে। মানুষ নিজের দুঃখে নয়, অন্যের সুখে বেশি কষ্ট পায়। আমি শুধু মনে করি না, বরং আমি জানি, কেউ না কেউ এটা করেছে। কার নাম বলতে পারব না, কিন্তু কিছু একটা যে হয়েছে, তাতে আমি নিশ্চিত।”

 

 

 

পরাগ আরও বলেন, শেফালির সঙ্গে তাঁর জীবনে এমন অনুভূতি একবার নয়, একাধিকবার হয়েছে।“আমার মনে হত, কিছু ঠিক নেই। একবার নয়, দু’বার এমন অনুভব করেছি। একবার তো কোনওভাবে কাটিয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু এবার ব্যাপারটা অনেক বেশি ভারী ছিল। ঠিক কী ছিল, আমি জানি না,” বলেন তিনি।

 

সেই কথোপকথনে পরাগ আরও দাবি করেন, ভক্তি বা প্রার্থনার সময় শেফালির মধ্যে পরিবর্তন তিনি স্পষ্টভাবে অনুভব করতেন। “ও এমন একজন মানুষ ছিল, সবসময় হাসিখুশি। কিন্তু আমি ওকে স্পর্শ করলেই বুঝে যেতাম, কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে। এইবার বিষয়টা বেশি মনে হওয়ায় আমি পুজোপাঠও বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। আমি শতভাগ নিশ্চিত, কেউ না কেউ কিছু করেছে,” বলেন পরাগ।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘কাঁটা লাগা’ রিমিক্সের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা শেফালি পরে টেলিভিশন ও একাধিক রিয়ালিটি শোতেও জনপ্রিয়তা পান। ২০২৫ সালের জুনে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু গোটা বিনোদন জগতকে স্তব্ধ করে দেয়। তবে চিকিৎসক ও সরকারি রিপোর্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শেফালির মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগের কারণে। কোনও ধরনের অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ নেই সেই ডাক্তারি রিপোর্টে।

 

শেফালির মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্মৃতি ও কাজকে বাঁচিয়ে রাখার কথা বলে আসছেন পরাগ ত্যাগী। তবে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।