'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-দের পাঠ চুকতেই টলিপাড়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। এর মধ্যেই টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় ফের একবার 'ব্যান কালচার' বিতর্ক দানা বেঁধেছে। শোনা যাচ্ছে, জাতীয় পুরস্কারজয়ী মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডু এবং হেয়ার স্টাইলিস্ট হেমা মুন্সী-সহ বেশ কয়েকজন কলাকুশলীকে নতুন একটি হিন্দি ছবির কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পরিচালক সুমন সেনের দ্বিভাষিক ছবি 'একা'। খবর অনুযায়ী, এই ছবির জন্য সোমনাথ ও হেমা ইতিমধ্যে পাঁচদিন শুটিংও করে ফেলেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার ছবির এক্সিকিউটিভ প্রডিউসারদের ডেকে তাঁদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই নির্দেশ দেওয়ার নেপথ্যে উঠে আসছে টলিপাড়ার বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর নাম।
কিন্তু এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন বিজেপি বিধায়ক, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। তিনি জানান এরকম কোনও খবর অন্তত তাঁর কাছে নেই। পাপিয়া অধিকারীর কথায়, "গত ১৫ বছর ধরে এই ব্যান কালচার চলেছে। কিন্তু এখন এসব নেই। ব্যান নেই, কোনও সাসপেনশন নেই, কিচ্ছু নেই। ওরা তো রোজ কাজ করছে। বিভিন্ন ছবিতে কাজ করছে। ওদের মাথায় আসলে এটা ঢুকে গিয়েছে। কিন্তু ওদের কাজে কোনওরকম বাধা দেওয়া হয়নি। আমি টালিগঞ্জের বিধায়ক, আমি সব সময় চেয়েছি মানুষ কাজ করুক। আমাদের কত পুরনো আর্টিস্ট, পুরনো টেকনিশিয়ানরা আছেন যাঁরা কাজ না পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমি তাঁদের সবাইকে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছি। সোমনাথ বা হেমা যদি ব্যান শব্দটা নিয়ে কথা বলেই থাকে, তাহলে সেটা ভুল বলেছে।"
প্রসঙ্গত, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর অনুযায়ী, কিছুদিন আগেই টলিপাড়ার একদল কলাকুশলী বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর কাজকর্ম নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনে মূলত 'কনফেডারেশন' গঠন এবং তার জেরে 'ফেডারেশন'-এর অস্তিত্ব সংকটের বিষয়টি তোলা হয়েছিল। সোমনাথ ও হেমার মতো কলাকুশলীরা সেই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সেই আক্রোশ থেকেই কি কাজ থেকে তাঁদের ছেঁটে ফেলার কথা উঠেছিল।















