রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে বদলের হাওয়া টলিপাড়াতেও। সামনে এসেছে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। এই অবস্থায় কেউ কেউ কনফেডারেশন নামে একটি সংগঠন খুলতে চাইছে। বিজেপির এই নতুন সংগঠনটির একাধিক মিটিংও হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু কনভেডারেশনের সঙ্গে পদ্মফুল শিবিরের কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর এনিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী।
কনফেডারেশনের কথা বলেছিলেন খোদ পাপিয়া অধিকারী। তবে কি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কনফেডারেশন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে? টালিগঞ্জের বিধায়কের কথায়, “শমীকবাবু সভাপতি হিসেবে, কার্যকর্তাদের উদ্দেশ্য যা বলেছেন, একদম ঠিক বলেছেন। কার্যকর্তাদের এক্তিয়ারে কতটা কী আছে, সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমাদের এখানে কোনও ইউনিয়ন নেই। ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও ইউনিয়ন হয় না। ফেডারেশন, কনফেডারেশনের কোনও মানে রাখে না। এটা কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নয়।"
তাহলে কোন প্রেক্ষাপট থেকে কনফেডারেশনের ভাবনা এসেছে? পাপিয়া অধিকারী বলেন, "আমি যখন এখানকার বিধায়িকা হয়ে এলাম, তখন সকলেই খুশি হয়েছিলেন যে এমন একজন মানুষ এলেন যিনি অভিনয় জগতের সঙ্গে আছেন। কত মানুষ এত বছর ধরে কোনও কাজ পাইনি। এক একজন অনেক কাজ করছে, আর কেউ কেউ কাজই পাচ্ছে না। ব্যান করা হয়েছে। নন-মেম্বার করে রেখে দিয়েছে। অনেকে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আবার ভয়ে তুলেও নিয়েছে। তাই একটা কনফেডারেশনের ধারণা হয়েছে। একটা ছাতার তলায় সব কাজ হবে। তাহলে সবাই মেম্বার হবে, কাজ পাবে।"
৭০০ টাকা দিয়ে কনফেডারেশন ফর্ম বিলি করা হয়েছে, এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। এপ্রসঙ্গে বিধায়ক স্পষ্ট জানান, তিনি কোনওভাবেই কনফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর কথায়, "কনফেডারেশন হল একটা বড় ছাতা। সেখানে এতদিন ধরে ফেডারেশনের কারণে যারা কাজ পায়নি, দিনের পর দিন বসে থেকেছেন, তাঁদের জন্য ভাবনাচিন্তা করা হবে। অ্যাডভোকেট, ঔপন্যাসিক সহ সমাজের কিছু প্রখ্যাত মানুষেরা এক্ষেত্রে পরামর্শ দেবেন।"
তাহলে এতদিন যে ফেডারেশনের দাপট ছিল তার কি কোনও অস্তিত্ব থাকবে? পাপিয়া অধিকারী বলেন, "ফেডারেশন এখন নেই। সেই কারণে কনফেডারেশনের ভাবনা এসেছে। সবকিছু গুছিয়ে নিতে আর একটু সময় লাগবে।"
এদিকে স্বরূপ বিশ্বাস না থাকলে এখনও কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ ইন্ডাস্ট্রিতে সুযোগ নিয়ে চলেছে বলে মত পাপিয়ার। আর বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এই অচলাবস্থা কাটাতে অস্থায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিধায়কের স্পষ্ট বার্তা, "পাপিয়া অধিকারী যতদিন আছে, টালিগঞ্জে হুমিকি-চমকি আর চলবে না। পুরনোদের ফিরিয়ে আনতে হবে, সবাইকে কাজ করাতে হবে। একজন পাঁচটা কাজ করবে, আর দশটা লোক বসে থাকবে, এমনটা করলে চলবে না। তাই ইন্ডাস্ট্রিতে যাতে কাজ ঠিকমতো হয়, তা টলিপাড়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত, এমন কয়েকজন মানুষ পর্যবেক্ষণ করবেন।"















