রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর মৃত্যুর অভিযোগের তদন্তে নতুন মোড়। এবার কলকাতায় এসে তদন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওড়িশার তালসারি কোস্টাল থানার পুলিশ।
বালেশ্বর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রত্যুষ দিওয়াকর জানিয়েছেন, চলতি মাসের ৪ তারিখ প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার তালসারি কোস্টাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর রুজু করে।
অভিযোগ দায়েরের দিন রাত প্রায় ১১টা নাগাদ আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে থানায় উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ একাধিক বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রী। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল তালসারির সমুদ্র সৈকত এবং যেখানে রাহুল তলিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি, সেখানে প্রাথমিক তদন্ত চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের পরবর্তী ধাপে একটি বিশেষ দল কলকাতায় গিয়ে একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলবে। অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল ব্যানার্জি, শুভাশিস মণ্ডল, শান্তনু নন্দী ও চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করবে পুলিশ।

উল্লেখ্য, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে স্তব্ধ টলিপাড়া। তালসারিতে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে কীভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ৪২-এর তরতাজা অভিনেতা, তা নিয়ে স্তম্ভিত গোটা দর্শকমহল। শুটিং সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। ঘটনাস্থলে আদৌ কোনও মেডিক্যাল টিম ছিল কিনা, জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালসারি মেরিন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছিল, শুটিংয়ের জন্য নেওয়া হয়নি কোনও পুলিশি অনুমতি, এমনকী থানাকেও জানানো হয়নি!
এদিকে রাহুলের মৃত্যুর পর শুটিংয়ের সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে টলিউপাড়া। তরুণ অভিনেতার মৃত্যু যেন শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে সকলের।















