ভারতীয় রেলের ট্রেনে রোজ কোটি কোটি মানুষ সফর করেন। লোকাল থেকে এক্সপ্রেস, সুপারফাস্ট থেকে প্রিমিয়াম- ট্রেনের হরেক রকম নাম আমাদের চেনা। কিন্তু এই চেনা রেলেরই এমন কিছু খুঁটিনাটি আছে, যা নিত্যযাত্রীদেরও অনেকের অজানা।
2
11
রোজকার যাতায়াতে ‘ইএমইউ’ (EMU), ‘ডেমু’ (DEMU) বা ‘মেমু’ (MEMU) শব্দগুলোর সঙ্গে আমরা কম-বেশি পরিচিত হলেও, এদের আসল ফারাকটা ঠিক কোথায়, তা অনেকেই জানেন না।
3
11
আসলে লোকাল হোক বা এক্সপ্রেস, প্রতিটি ট্রেনকে গন্তব্যে টেনে নিয়ে যায় তার ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ। এই ইঞ্জিনগুলো ঠিক কী ধরনের শক্তিতে চলে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই নামকরণ করা হয়েছে।
4
11
DEMU (ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট): সহজ কথায়, এই ট্রেনগুলি চলে ডিজেলে। এদের আবার তিনটি ভাগ রয়েছে- ডিজেল বৈদ্যুতিক, ডিজেল হাইড্রোলিক এবং ডিজেল মেকানিক্যাল।
5
11
এই ট্রেনের প্রতি তিনটি বগির পর একটি করে ‘পাওয়ার কোচ’ বা ইঞ্জিন জোড়া থাকে। ট্রেনের মধ্যেই শক্তি উৎপাদিত হওয়ায় আলাদা করে বড় ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয় না, ফলে এটি বেশ শক্তি সাশ্রয়ী।
6
11
EMU (ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিট): কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি বা চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরের লাইফলাইন এই ইএমইউ। আমাদের চেনা শহরতলি লোকাল এবং মেট্রো রেল। মাথার ওপর থাকা বিদ্যুতের তার থেকে ‘প্যানটোগ্রাফ’-এর সাহায্যে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে এই ট্রেন চলে।
7
11
সাধারণত ১২ থেকে ১৬টি বগি থাকে এই ট্রেনগুলিতে। ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে এই লোকালগুলি।
8
11
MEMU (মেনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট): নামেই স্পষ্ট, মেনলাইনে দূরপাল্লার যাত্রায় বিদ্যুৎ শক্তিতে চলে এই ট্রেন। মূলত ২০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের দুটি শহরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে এই উন্নত প্রযুক্তির ট্রেন চালানো হয়।
9
11
এই ট্রেনে সাধারণত ৮ থেকে ১২টি বগি থাকে। প্রতি চারটি বগি অন্তর একটি করে ‘পাওয়ার কার’ বা ইঞ্জিন থাকে।
10
11
সাধারণ লোকালের চেয়ে এটি অনেক আধুনিক। এই ট্রেনগুলিতে এসি কামরা এবং শৌচাগারের সুবিধাও মেলে। অথচ, দূরপাল্লার অন্য ট্রেনের তুলনায় এর ভাড়াও অনেকটাই কম।
11
11
সংক্ষেপে বলতে গেলে, শহরের কম দূরত্বের জন্য বিদ্যুৎ-চালিত EMU, একটু বেশি দূরত্বের মেনলাইনের জন্য আধুনিক MEMU, আর যে সব রুটে এখনও বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হয়নি, সেখানে ভরসা ডিজেল-চালিত DEMU।