একাকিত্বের অন্ধকার আর সম্পর্কের জটিল ব্যকরণ নিয়ে প্রকাশ্যে ‘অভিমান’-এর ঝলক। এক ক্রিকোণ সম্পর্কের গল্প নিয়ে হাজির প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলি। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের পরিচালিত এই ছবি এগিয়েছে আকাশ চ্যাটার্জি নামে এক রকস্টারকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে।‘আকাশ চ্যাটার্জি’, যিনি একসময় একটা গোটা প্রজন্মের হৃদস্পন্দন ছিলেন। কিন্তু আচমকাই ওঁর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার, অবসাদের যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যেতে যেতে তিনি আক্রান্ত হন ‘অ্যালঝাইমার্স’  রোগে!

ছবির প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে জনতামহল। প্রসেনজিৎ-শুভশ্রী-যিশুর রসায়ন নিয়ে  জমাটি আলোচনা করার পাশাপাশি দর্শকের নজর এড়ায়নি ছবিতে প্রসেনজিতের দু'রকম লুক-ও। যত্ন করে ছাঁটা চাপদাড়ি আর কাঁধ ছুঁয়ে যাওয়া চুলে ওঁর রকস্টার অবতার যেমন তাক লাগিয়ে দিয়েছে, তেমনই একাকিত্বে ডুবে থাকা, রুপোলি পাক ধরা চুলের প্রাক্তন রকস্টারের রোগাক্রান্ত চেহারা দেখেও চমকে উঠেছেন অনেকে। ‘আকাশ চ্যাটার্জি’-র এই লুক এবং পর্দার পেছনের নানা গল্প নিয়ে এবার মুখ খুললেন স্বয়ং পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। আলোচনায় উঠে এল অভিমান তৈরির নানান টুকরো গল্পও।    

আজ, ২৫শে মে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান গ্রহণ করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে ছবির নায়ককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে কথার শুরুতেই  ইন্দ্রদীপ বললেন, “প্রথমেই বুম্বাদাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আজ দিল্লিতে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করছেন উনি। দেখুন, ওঁর আগেই পাওয়া উচিত ছিল কি না, এখনই কেন পেল...এসব তর্কে একেবারেই যাচ্ছি না। শুধু বলব, উনি ভীষণভাবে ডিজার্ভ করেন এই সম্মান। তাই আমরা, গোটা টলিপাড়া ওঁর এই সম্মানপ্রাপ্তিতে ভীষণ গর্বিত। আর একটা কথা এই ফাঁকে বলে রাখি, যা গভীরভাবে বিশ্বাস করি -প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-ই কিন্তু আমাদের পদ্মশ্রী!”

 

এরপর প্রসঙ্গ উঠল ‘অভিমান’-এর। পরিচালক জানালেন, পদ্মশ্রী পাওয়ার পর প্রসেনজিতের যে ছবি মুক্তি পাবে বড়পর্দায়, তা হল অভিমান। এটা তাঁর কাছে ঐশ্বরিক যোগাযোগ ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে এও জানাতে ভুললেন না যে গত ডিসেম্বরেই এই ছবি করতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ, যা পদ্মশ্রী সম্মানের জন্য নাম ঘোষণারও আগে ছিল। পরিচালকের ইঙ্গিত পরিষ্কার - এই ছবিতে 'ইন্ডাস্ট্রি' কাজ করছেন, সেটাই তাঁর কাছে গর্বের ওআনন্দের। প্রসেনজিতের পদ্মশ্রী পাওয়া, সেই আনন্দের জৌলুস আরও একটু বাড়াল, এইটুকুই।" 

কথা গড়াল ‘অভিমান’-এ প্রসেনজিৎ-এর লুক-এর দিকে। ছবিতে প্রসেনজিতের রকস্টার লুক কোনও নির্দিষ্ট তারকাকে দেখে অনুপ্রাণিত কি না, তা নিয়ে এক অদ্ভুত ও গভীর ব্যাখ্যা দিলেন পরিচালক-সুরকার ইন্দ্রদীপ। তাঁর সপাট বক্তব্য, “দেখুন, ‘রকস্টার’ শব্দটার ব্যাপ্তি কিন্তু বিরাট।  রকস্টার মানেই স্রেফ গিটার বাজিয়ে সারাক্ষণ রক গান গাওয়া নয়। ‘রক’ তো একটা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ভাবনা। সেই হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের থেকে বড় রকস্টার এই ভূ-ভারতে আর কেউ কোনওদিনও আসেননি। ভারত কেন গোটা বিশ্বে বললেও এতটুকু অত্যুক্তি হবে না। যায় হোক, তাই ছবিতে বুম্বাদার লুক কোনও রকস্টারের থেকে সরাসরি অনুপ্রাণিত নয়। অঞ্জন দত্ত থেকে শুরু করে নানান আন্তর্জাতিক রকস্টারের গান-সুর শুনে বড় হয়েছি, তাঁদের দেখেছি। তারই মোন্তাজ রয়েছে আকাশ চ্যাটার্জির মধ্যে। ছবিতে বুম্বাদার লুক কেমন হবে, তার প্রাথমিক ধারণা আমার-ই। ওঁর মাথায় যে ধরনের টুপি দেখা যাচ্ছে, সেটাও আমার অ্যাডিশন। বাকি রূপটানের ম্যাজিক ফুটিয়ে তুলেছেন স্টাইলিস্ট সাবর্ণী।”


প্রশ্ন ছিল, ‘অভিমান’-এ প্রসেনজিতের কোন লুকটা চরিত্রের ভেতরের কোন ইমোশনকে সবচেয়ে বেশি রিফ্লেক্ট করে বলে মনে হয়? ছোট্ট অথচ দ্রুত জবাব এল –“দ্বিতীয় পর্যায়ের।  ‘অ্যালাঝাইমার্স’ রোগে ভোগা আকাশ চ্যাটার্জি। কারণ অতীতকে ভুলে বাঁচা যায় না। অতীতকে অস্বীকার না করলে তো বর্তমান-ই নড়বড়ে হয়ে যাবে। বর্তমানের পথের বাঁক কোনদিকে নেবে, তার বীজ বোনা থাকে কিন্তু অতীতেই। এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারব না। তাহলে মুশকিল হয়ে যাবে...” বলতে বলতে হেসে ওঠেন তিনি। 

ছবির বাকি রহস্য জিইয়ে রাখতে হাসতে হাসতে এর বেশি আর কিছু খোলসা করতে চাননি পরিচালক। তবে এটুকু স্পষ্ট, পর্দায় আরও একবার এক অন্য প্রসেনজিৎকে আবিষ্কার করতে চলেছে বাঙালি দর্শক।