বক্স অফিসে প্রিয়দর্শনের ‘ভূত বাংলা’ ঝোড়ো ব্যাটিং করলেও, ছবির নেপথ্যে চলতে থাকা গুঞ্জন যেন থামছেই না। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভাইরাল পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। দাবি করা হচ্ছে, ছবিতে নিজের ‘স্ক্রিন টাইম’ বা উপস্থিতির সময় কমিয়ে দেওয়ায় নাকি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী তাবু। এমনকী, এর নেপথ্যে অক্ষয় কুমারের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ছবির পরিচালক প্রিয়দর্শন এবার স্বয়ং মুখ খুলে এই সমস্ত জল্পনা ধুয়ে মুছে সাফ করে দিলেন।


ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, তাবু যখন এই ছবির চুক্তিতে সই করেন, তখন তাঁর চরিত্রটি ছিল অনেক বেশি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শুটিংও করেছিলেন। কিন্তু এডিটিংয়ের পর নাকি তাবু লক্ষ্য করেন তাঁর উপস্থিতি অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি অভিযোগ ওঠে, তাঁর অগোচরেই স্ক্রিপ্ট ও এডিটিংয়ে বড়সড় বদল আনা হয়েছে। পোস্টটিতে আরও বলা হয়, তাবু সাধারণত গুরুত্বহীন চরিত্রে অভিনয় করেন না, তাই এই ঘটনায় তিনি নাকি ‘বিরক্ত’ এবং ভবিষ্যতে অক্ষয় কুমার বা এই টিমের সঙ্গে কাজ করবেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। উল্লেখ্য, এর আগে রানি মুখোপাধ্যায়ও ‘ওএমজি ৩’ থেকে চরিত্র ছোট হওয়ার আশঙ্কায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন বলে খবর রটেছিল, সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে সেই প্রসঙ্গটিও টেনে আনা হয়েছে।

 

 

এই বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই মুখ খোলেন পরিচালক প্রিয়দর্শন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই নেতিবাচক প্রচারের নিন্দা করেছেন। পরিচালকের সাফ কথা, “আমি জানি না কেন এবং কারা এই সব নেতিবাচক খবর ছড়াচ্ছে। আমি এই ছবির পরিচালক এবং কী রাখা হবে আর কী বাদ যাবে, তা আমিই ঠিক করি। ছবিটা দারুণ সফল, আর ঠিক এই সময়েই কিছু মানুষ নেতিবাচকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।" তাবুর ক্ষুব্ধ হওয়ার খবরটি উড়িয়ে দিয়ে তিনি যোগ করেন, “এই ছবি নিয়ে তাবু একেবারেই অখুশি নন। ওর সঙ্গে আমি আটটি ছবি করেছি। ও যদি বিরক্ত হতো, তবে আমাকে সরাসরি বলত। ও যা যা শুট করেছে, তার প্রতিটি অংশই ছবিতে রয়েছে।”

শোনা যাচ্ছিল যে, অক্ষয় কুমার নিজের স্ক্রিন টাইম বাড়ানোর জন্য তাবু’র দৃশ্য কাটছাঁট করার অনুরোধ করেছিলেন। এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে প্রিয়দর্শন বলেন, “অক্ষয় আমাকে কোনো অংশ এডিট করার জন্য কখনও বলেনি, ওটা ওর স্বভাব নয়। আমি সততার সঙ্গে কাজ করি। প্রতিটি অভিনেতা ছবি মুক্তির আগেই তা দেখে নিয়েছেন। যারা এমন মিথ্যে ছড়াচ্ছেন, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত।”