সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাতনি রাহা কাপুরকে নিয়ে বর্ষীয়ান পরিচালক মহেশ ভাট আবেগঘন অনুভূতির কথা ভাগ করেছেন। আলিয়া ভাট এবং রণবীর কাপুরের মেয়ে রাহার জন্য তাঁর জীবনে যে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবর্তন এসেছে, সে কথাই ভাগ করে নিয়েছেন এই প্রবীণ পরিচালক। মহেশ ভাট জানান, আলিয়ার অভাবনীয় সাফল্যের সফর তিনি যখন কেবল উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই রাহার আগমনে সবকিছু এক নিমেষে বদলে গিয়েছে। 

তাঁর কথায়, “রাহা আমাদের জীবনে এসেছে এক দেবদূতের মতো। আলিয়া আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, সেই বিস্ময়কর জার্নিটা আমি সবে অনুভব করতে শুরু করেছিলাম, আর তখনই রাহা আমাদের জীবনে এল। ওর কথা ভাবলেই আমার প্রতিটা রন্ধ্রে হাসি ফুটে ওঠে।”

দাদু হওয়ার এই অভিজ্ঞতা মহেশ ভাটকে জীবনদর্শনের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। নিজের মেয়েকে মা হিসেবে দেখা এবং রাহার বেড়ে ওঠা তাঁকে যেন‌ রোজ সময়ের হিসেব শিখিয়ে দিচ্ছে। রাহার উপস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ও আপনাকে সময়ের একটা সঠিক ধারণা দেবে। আপনি যখন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে জীবনের এই স্রোতকে দেখেন প্রথমে আপনার মেয়ে, তারপর তার সন্তান, তখন আপনি হঠাৎ করেই জীবনের সেই নিরন্তর ধারাটি দেখতে পান যা হাজার বছর ধরে বয়ে চলেছে এবং আপনি চলে যাওয়ার অনেক পরেও চলতেই থাকবে। তবে আমি জানি, আমি অন্য যে কোনও দাদুর চেয়ে আলাদা নই। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই প্রতিটি দাদু নতুন করে জীবনকে আবিষ্কার করে। সারাদিনে একবার অন্তত ওর সঙ্গে শুধু কথা বলাটাই আমার জন্য যথেষ্ট।”


তিনি জানান, পরিবারের বাকিরা রাহার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বললেও তিনি হিন্দিতেই কথা বলতে পছন্দ করেন। মহেশ ভাট জানান, এটা দেখে একবার আলিয়া মজার ছলে বলেছিলেন, “ওর জীবনে তোমার একমাত্র অবদান সম্ভবত এটাই (হিন্দি শেখানো) হতে চলেছে।”

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে গাঁটছড়া বাঁধেন আলিয়া ও রণবীর কাপুর। বছর ঘুরতেই তাঁদের কোলে এসেছিল ছোট্ট রাহা।