নিজস্ব সংবাদদাতা: জাদুসম্রাট তিনি। দেশজোড়া তাঁর নাম। ভারতীয় জাদুবিদ্যাকে আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেওয়ায় তাঁর অবদান কম নয়। সুদূর জাপান থেকে শুরু করে স্পেন, আমেরিকাতেও তাঁর খ্যাতি দেখে ভুরু কপালে উঠতে পারে দেশের তাবড় তারকা। তিনি, জাদুকর প্রদীপচন্দ্র সরকার (পি সি সরকার জুনিয়র)।  জাদুবিদ্যায়, মায়াবিদ্যায় জগৎজোড়া যাঁর নাম, সেই ব্যক্তিই তাঁর তিন  মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজে পাচ্ছেন না! তাই তো এক সংবাদপত্রে বড় বড় হরফে 'পাত্র চাই' বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনি। জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র এবং তাঁর স্ত্রী জয়শ্রী সরকারের তিন মেয়ে -মানেকা, মৌবনী এবং মুমতাজ সরকার। তিন মেয়েই অবিবাহিতা, তবে অবশ্যই নিজেদের কর্মক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। বড় মেয়ে মাইক তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যকেই পেশা করেছেন। টলিপাড়ার পরিচিত মুখ মৌবনী। অন্যদিকে, মুমতাজ টলিউডের পাশাপাশি কাজ করছেন বলিউডেও।


তা কী লেখা রয়েছে এই ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপনে? “জাদুশিল্পী পিসি সরকার জুনিয়র এবং জয়শ্রী সরকারের কন্যাদের জন্য জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ৩৮-৪৫ উপযুক্ত সুদর্শন, দীর্ঘাঙ্গ, সুপ্রতিষ্ঠিত পাত্র চাই।” লেখার নীচে দেওয়া রয়েছে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরও। তবে এই বিজ্ঞাপন গতকাল পত্রিকায় বেরোনোর পর থেকেই সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। নেটপাড়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এত খ্যাতনামা জাদুকরের মেয়েদের জন্য পাত্রের অভাব? বাকি সাধারণ মানুষের মতো সংবাদ পত্রিকায় বিয়ের বিজ্ঞাপন? যা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।


বালিগঞ্জের ‘ইন্দ্রজাল ভবন’-এ থাকেন না অনেকদিন। বর্তমানে বাইপাস সংলগ্ন প্রাসাদপম বাড়ি 'জয়শ্রী ভবন’-এর কর্তা প্রদীপচন্দ্র সরকার। সকলের কাছে যিনি জাদুকর পি সি সরকার (জুনিয়র)। বিজ্ঞাপন কেন, ‘পাত্র’ কি কম পড়িয়াছে? প্রশ্নের জবাবে  হেসে আজকাল ডট ইন-কে জাদুকর বললেন, " দেখুন, আমার এবং জয়শ্রীর প্রেম করে বিয়ে। বাবা-মায়েরও ওকে খুব পছন্দ ছিল। তিন মেয়েকে আমরা বলেছিলাম, তোমরা নিজেরা দেখেশুনে নিজেদের জন্য পাত্র নির্বাচন করো, আমরা শেষে দেখেটেখে নেব। বহুবার বলেছি। মেয়েদের সব শিক্ষা দিতে পেরেছি, কিন্তু প্রেমটা শেখাতে পারিনি।  ওদের দাবি, যেসব ছেলে তাদের চোখে পড়েছে তাদের মধ্যে পৌরুষের বেজায় অভাব!  অগত্যা আমাদের উপর দায় বর্তিয়েছে ওরা। আমিও ভাবলাম, সমাজকে তো সারাজীবন ম্যাজিক দেখিয়েছি, এবার সমাজ যদি আমার তিন মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র খুঁজে দিয়ে একটা ম্যাজিক দেখায়!”  

 

প্রশ্ন ছিল, বিজ্ঞাপনে যেসব দাবি করেছেন সৎপাত্রের জন্য, সেগুলো যদি মিলে যায় কোনও আবেদনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যে পেশায় জাদুকর অথচ অর্থের দিক থেকে দুর্বল। কী করবেন? এবার খানিক গম্ভীর হয়ে দৃঢ়স্বরে জবাব, “কোনও সমস্যা নেই! তাঁর মধ্যে যদি সততা থাকে, স্বপ্ন থাকে তাঁকে আমি নিজে হাতে গড়েপিটে নেব। আমি যখন বিয়ে করেছিলাম তেমন কোনও উপার্জন করতাম না। বাবা করতেন। সাহস ও নিজের উপর আত্মবিশ্বাসে ভর করে বিয়ে করেছিলাম!” জাদুকরের মেয়েরা জানে এই বিজ্ঞাপনের কথা? একগাল হেসে জবাব এল, “একি! নিশ্চয়ই।”


আরও প্রশ্ন ছিল, এমন কি সম্ভাবনা রয়েছে যে তিন মেয়ের একই দিনে বিয়ে দিলেন? প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই জাদুকরের ঝটিতি উত্তর, “হ্যাঁ। হতেই পারে। কোনও সমস্যা নেই।” আর দাবি? হবু জামাইদের উদ্দেশ্যে কোনও দাবি রয়েছে আপনার? “তাঁদের ব্যবহারে, মানবিক গুণগুলোর মধ্যে ম্যাজিক থাকতে হবে। এটুকুই। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, মেয়েদের যদি তাঁদের পছন্দ হয়, ব্যস! আর কি চাই।” শেষ প্রশ্ন ছিল, বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পর পাত্রদের ফোন আসা শুরু হয়েছে না কি বাড়ির দরজায় কড়া নাড়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে? সশব্দে হেসে বললেন, “প্রচুর ফোন আসছে। তবে বাড়িতে আসার মতো পরিস্থিতি হয়নি। আর এলে একটি সতর্কবাণী দিয়ে দেব পাত্রপক্ষদের।” 

কী সেই সতর্কবাণী? “বলব, আমার স্ত্রী হাতসাফাইতে আমার থেকেও সরেস। যা উপার্জন করি, সব ভ্যানিস করে দেয়! আমার মেয়েরা ওঁর থেকেও এককাঠি উপরে। দশ হাতে ঝাড়ে! হা হা হা... তাই পাত্রপক্ষকে আগাম সতর্কবাণী দিয়ে রাখব যে জামা-প্যান্টে যেন তাঁদের দশটা পকেট থাকে, হা হা হা...”