‘কেউ বলে ফাল্গুন কেউ বলে পলাশের মাস... আমি বলি আমার সর্বনাশ’... 

বসন্তকে যদি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় তা হলে মধুমাসে প্রেম অনিবার্য। এই দলে তারকারাও সামিল। চৈত্রমাসের শুরুতেই সেই ভাবনা উস্কে দিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর ‘নোয়া’য় সেদিন একটুকরো বসন্ত এসেছিল। লীনার আমন্ত্রণে ‘নোয়া’ রীতিমতো তারকাখচিত। উপস্থিত শাশ্বতী গুহঠাকুরতা, দিগন্ত বাগচী, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজন্যা মিত্র, কমলিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইপ্সিতা মুখোপাধ্যায়ের মতো জনপ্রিয় অভিনেতা। বসন্ত কি তাঁদের মনেও দোলা দেয়? ক্যামেরার সামনে সংলাপ বলতে বলতে কি আনমনা হয়ে পড়েন প্রথম প্রেমের কথা ভেবে? এই প্রশ্ন তুলে দিয়েই কাহিনি-চিত্রনাট্যকার মাইক তুলে দেন আমন্ত্রিতদের হাতে। তারপর?

প্রেমের আবহ জমাতে অম্বরীশের অস্ত্র রবি ঠাকুরের গান। ‘সখী ভাবনা কাহারে বলে, সখী যাতনা কাহারে বলে’... অভিনেতা খোলা গলায় গান ধরতেই ‘নোয়া’য় পিনপতন নিস্তব্ধতা! গানের পরে কবিতা আসবে, এটাই রীতি। পাদপূরণে কমলিকা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস থেকেও নারীমন সময়ে অসময়ে সাড়া দিয়েছে ভালবাসার ডাকে। তারই প্রকাশ তাঁর লেখা ছোট কবিতায়। সেই অনুষঙ্গ ধরে অম্বরীশের দাবি, তাঁর জীবনে একসঙ্গে দুটো প্রথম প্রেম এসেছিল!

কী ভাবে? অম্বরীশের প্রথম প্রেম পাড়ার এক মেয়ে। অভিনেতা প্রচণ্ড চেষ্টা করে তার জন্য ওজন ঝরিয়েছিলেন। যখন তার মুখোমুখি প্রেমিকা অন্যের। সেদিনই তাঁর শপথ, কোনও দিন প্রেমে পড়বেন না। কোনও দিন কারও আবদারে রোগা হবেন না। পরে তাঁর প্রেম গানের সঙ্গে। তাঁর কাছে প্রেম মানে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান। তালিকায় সংযোজন রাহুলের অভিজ্ঞতা। রাহুলেরও প্রথম প্রেম পাড়ার মেয়ে। তার জন্য গ্রিটিংস কার্ড, তার জন্য ক্যাসেট— রাহুল যেন স্বয়ং শাহরুখ খান! অভিনেতা প্রথম চুম্বন নিয়েও অকপট! বলেন, ‘‘আমাদের প্রথম চুম্বন। মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। হঠাৎই পাশের বাড়ির এক মেয়ের বেসুরো গলায় গান! আমরা হেসে ফেলেছিলাম। প্রথম চুম্বন গেল ভেস্তে।’’ 



এঁদের কথা শুনতে শুনতে রাজন্যার মনে হয়েছে, প্রথম কোনও কিছুই বোধহয় ভোলার নয়। তখন তিনি নবম শ্রেণি। তখন তিনি শাড়ি! এক ছেলের ভারী মনে ধরেছিল তাঁকে। সাহসে ভর করে চিঠিও লিখেছিল। কিন্তু মা-বাবার কড়া দৃষ্টিতে সেই ভাললাগা টেকেনি। যদিও অভিনেত্রী একে প্রথম প্রেম বলতে নারাজ। এরপরে পাড়ার বাবাইদা তাঁকে প্রেম নিবেদন করেছিল! রাজন্যা ‘হ্যাঁ’ বলার আগেই পাড়ার বান্ধবীর অনুরোধ, সেও তাকে ভালবাসে! বাধ্য হয়ে পিছু হটেছিলেন তিনি। আজ তিনি বুঝেছেন, প্রেম নয়, ভালবাসা প্রকৃত অনুভূতি। যে শুধুই বসন্তে নয় সব ঋতুতেই রঙিন।

 ওই দিন কেবল নীরব লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। যিনি নিত্যদিন পর্দায় প্রেম ছড়ান তাঁর জীবনে প্রেম আসেনি, হয়? উপস্থিত সহার ধারণা, অন্য কোনও দিন অন্য কোনও আসরে হয়তো বাকি শ্রোতা নীরব হবেন। কাহিনিকার সেদিন তাঁর জীবনকাহিনির পাতা উল্টোবেন, এক মনে।