মহারাষ্ট্রের বিএমসি নির্বাচনে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ভোট দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়লেন হেমা মালিনী। ভোট দেওয়ার পর কালি-লাগানো আঙুল দেখিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ। সেই সময়ই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাধারণ নাগরিক তাঁর বিরুদ্ধে ‘বিশেষ সুবিধা’ পাওয়ার অভিযোগ তোলেন।

 

সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেমা মালিনী যখন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন, ঠিক তখনই এক ব্যক্তি ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “আমরা গত ৬০ বছর ধরে এখানে ভোট দিচ্ছি। কিন্তু এমন বিশৃঙ্খলা কখনও দেখিনি। আমি সকাল ৭টা ৪৫ থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ভোট দিতে পেরেছি ৯টা ৩০-এ। এখানে কেউ জবাবদিহি করছে না। কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না। এমনকি কোনও স্থানীয় কর্মীও নেই।”

 

এই পরিস্থিতিতে হেমা মালিনী নিজের টিমের এক সদস্যকে ডেকে বিষয়টি সামলাতে বলেন। এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সবাইকে ভোট দিতে আসা উচিত। যেমন আমি আজ সকালে ভোট দিতে চলে এসেছি। আমার সামনে আরও অনেক কাজ আছে, সেগুলিও করব। কিন্তু ভোট দেওয়া মুম্বইয়ের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

 

হেমা মালিনীর পাশাপাশি এদিন শহরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেখা গিয়েছে একাধিক বলিউড তারকাকে। ভোট দিতে হাজির ছিলেন অক্ষয় কুমার, টুইঙ্কল খান্না, সান্যা মালহোত্রা, জন আব্রাহাম, তামান্না ভাটিয়া, জোয়া আখতার, দিব্যা দত্ত, নানা পটেকর এবং বিশাল দাদলানি।

 

এদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, যা চলবে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ভোট গণনা হবে শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পুর নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গোটা রাজ্যের পুরসভা নির্বাচনের জন্য রাখা হয়েছে ৪৩,৯৫৮টি কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৮৭,৯১৬টি ব্যালট ইউনিট। শুধুমাত্র বৃহন্মুম্বই পুরসভার জন্যই বরাদ্দ ১১,৩৪৯টি কন্ট্রোল ইউনিট ও ২২,৬৯৮টি ব্যালট ইউনিট।

 

ন্যদিকে,এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার মুখ খুললেন হেমা মালিনী। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, বাস্তবের সঙ্গে এই সব গুঞ্জনের কোনও সম্পর্ক নেই। সানি ও ববি দেওলের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হেমার বক্তব্য, “সানি আমাকে সবসময় সব জানায়। ও যা কিছু করে, আমাকে বলে। আমাদের সম্পর্ক বরাবরই খুব ভাল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। আজও তাই।”এই জল্পনা কেন তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “আমি বুঝতেই পারি না কেন মানুষ ভাবে আমাদের মধ্যে কিছু গুরুতর সমস্যা আছে। আসলে মানুষ গসিপ চায়। কিন্তু আমি কেন তার উত্তর দেব? কেন আমাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে? এটা আমার জীবন, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন। আমরা সবাই খুব সুখে আছি, সানি খুব কাছের মানুষ। এর বেশি কিছু বলার নেই।” ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর থেকেই বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। বিশেষ করে তাঁর দুই স্ত্রী এবং সন্তানদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘিরে। গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫-এ ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর  প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয় জল্পনা। সেই জল্পনা আরও জোরদার হয় যখন অভিনেতার প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর এবং তাঁদের সন্তানদের -সানি দেওল, ববি দেওল, অজীতা ও বিজেতা দেওলআয়োজিত প্রার্থনা সভাতে উপস্থিত থাকেননি হেমা মালিনী ও তাঁর কন্যারা।