প্রয়াত বিজয়া মেহতা 

ভারতীয় থিয়েটার এবং অন্যধারার ছবির জগতে এক যুগের অবসান ঘটল। গত মঙ্গলবার রাতে (৩০শে জুন, ২০২৬) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি নাট্যপরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেত্রী বিজয়া মেহতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি। মারাঠি পরীক্ষামূলক নাট্যচর্চার পথপ্রদর্শক এবং ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্বের এই প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের সংস্কৃতি মহলে।বিজয়া জয়বন্ত (পরবর্তীতে মেহতা) হিসেবে জন্মগ্রহণ করা এই নাট্যব্যক্তিত্ব শুধু একজন পরিচালক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একটি আস্ত প্রতিষ্ঠান। ১৯৬০-এর দশকে মহারাষ্ট্রে যখন আধুনিক ও পরীক্ষামূলক নাটকের জোয়ার আসছে, তখন নাট্যকার বিজয় তেন্ডুলকর, অভিনেতা শ্রীরাম লাগু এবং অরবিন্দ দেশপাণ্ডের সাথে হাত মিলিয়ে মুম্বইতে গড়ে তুলেছিলেন ঐতিহাসিক নাট্যদল ‘রঙ্গায়ন’।

কিংবদন্তি থিয়েটার মেন্টর ইব্রাহিম অলকাজি এবং আদি মার্জবানের অধীনে তালিম নেওয়া বিজয়া মেহতা পরবর্তীতে ভারতের অন্যতম সেরা থিয়েটার ডিরেক্টর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর পরিচালিত ‘এক শূন্য বাজিরাও’ এবং বের্টোল্ট ব্রেখটের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য ককেশিয়ান চক সার্কেল’-এর মারাঠি রূপান্তর ‘আজব ন্যায় বর্তুলাচা’ ভারতীয় নাট্যজগতের ইতিহাসে মাইলফলক বা ল্যান্ডমার্ক প্রোডাকশন হিসেবে গণ্য করা হয়।


হৃদরোগে আক্রান্ত বস্কো? 

বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার জুটি ‘বস্কো-সিজার’ খ্যাত বস্কো লেসলি মার্টিস বর্তমানে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা কাজ করে যাওয়ার মাঝেই আচমকা বুকে অস্বস্তি ও ভারী ভাব অনুভব করায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আপাতত চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এই জাতীয় পুরস্কার জয়ী কোরিওগ্রাফার।খবর ,গত ২৭শে জুন বুকে একটানা অস্বস্তি বোধ করায় বস্কো নিজে থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে চিকিৎসকেরা কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

সূত্রের খবর, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বস্কোর প্রাথমিক কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং স্বস্তির খবর এটাই যে ওঁর প্রাথমিক টেস্ট রিপোর্টগুলো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এসেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে এবং ওঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখতে চিকিৎসকেরা আরও কিছু বাড়তি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরবেন তিনি। যদিও এই মুহূর্তে বস্কো বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ওঁর স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি, তবে ওঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে তিনি চিকিৎসায় ভাল সাড়া দিচ্ছেন এবং আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।

 

রাজামৌলির নামাঙ্কিত আসন এবার ফ্রান্সে 

চলচ্চিত্রের জাদুতে বারবার ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। ‘বাহুবলী’ কিংবা অস্কারজয়ী ‘আরআরআর’ -এর মতো কালজয়ী ছবির পরিচালক এস এস রাজামৌলি এবার লাভ করলেন এক বিরল আন্তর্জাতিক সম্মান। ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ ফিল্ম আর্কাইভ এবং থিয়েটার প্রতিষ্ঠান ‘সিনেমাথেক ফ্রঁসেজ’ বিশ্ব চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজামৌলির নামে একটি স্থায়ী আসন উৎসর্গ করেছে।  এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে থিয়েটারে হাজির ছিলেন ৯৩ বছর বয়সী অস্কারজয়ী ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা কোস্তা-গাভরাস। রাজামৌলির সিনেমা দেখার পর তিনি এতটাই মুগ্ধ হন যে, টানা ৮ ঘণ্টা সস্ত্রীক থিয়েটারে বসে ‘আরআরআর’, ‘ইগা’  এবং রাজামৌলির মাস্টারক্লাস উপভোগ করেন। 

প্যারিসের এই বিখ্যাত ‘হেনরি ল্যাংলোইস’ অডিটোরিয়ামে নিজের নামের নামফলক খোদাই করা স্থায়ী আসনটি দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভারতীয় এই পরিচালক।ফ্রান্সের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকেই রাজামৌলি তাঁর আগামী বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘বারাণসী’-র প্রথম ঝলক উন্মোচন করেন।