মায়ের পথ অনুসরণ মেয়ের 

বলিউডে নতুন অধ্যায়ের সূচনা যেন কখনও শুধু নতুন ছবি নয়, কখনও তা হয়ে ওঠে উত্তরাধিকার, আবেগ আর সময়ের সেতুবন্ধ। তেমনই এক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে এখন খুশি কাপুর। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী-র শেষ ছবি ‘মম’-এর সিক্যুয়েল ‘মম ২’-এর মুখ্যচরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে, এই খবরই এখন বলিউডে আলোড়ন তুলেছে।

২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই থ্রিলারটি শুধু সমালোচকদের প্রশংসাই পায়নি, বরং সেটিই ছিল শ্রীদেবীর শেষ বড়পর্দার কাজ। সেই স্মৃতির আবহে তৈরি হতে চলা সিক্যুয়েল স্বাভাবিকভাবেই বহন করছে আবেগের ভার। নতুন ছবিটি পরিচালনা করছেন গিরীশ কোহলি। প্রথম ছবির পরিচালক রবি উদয়ওয়ার-এর সাফল্যের পর এবার গল্পের নতুন দিক উন্মোচনের দায়িত্ব তাঁর হাতে। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকছেন যিশু সেনগুপ্ত ও করিশ্মা তান্না।প্রযোজনার ক্ষেত্রেও রয়েছে পারিবারিক যোগ। ছবিটি প্রযোজনা করছেন খুশির বাবা বনি কাপুর, যিনি প্রথম ছবির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রযোজক অক্ষয় পুরি।


কত বড় ‘ধুরন্ধর ২’?

বলিউডে বড় ছবি নতুন নয়, কিন্তু কখনও কখনও কোনও ছবি মুক্তির আগেই হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্র। এবার সেই জায়গায় উঠে এসেছে  ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ । রণবীর সিং অভিনীত এই স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলার ঘিরে প্রত্যাশা এখন এমন স্তরে পৌঁছেছে, যেখানে ছবির গল্পের থেকেও বেশি আলোচনা হচ্ছে এর দৈর্ঘ্য নিয়ে।

প্রথম ছবিটি মুক্তির সময়েই নজর কাড়ে। ৩ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটের অস্বাভাবিক দীর্ঘ রানটাইম থাকা সত্ত্বেও সেটি বক্স অফিসে সফল হয় এবং প্রমাণ করে যে দর্শক যদি গল্পে ডুবে যান, সময় তখন বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। সেই সাফল্যের পরই নির্মাতারা সিক্যুয়েলের পরিকল্পনা করেন। আর এবার তারা যেন আরও বড় ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।

শোনা যাচ্ছে, নতুন ছবিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩৫ মিনিট অর্থাৎ প্রায় ৩ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট! আবার ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের একটি কাটের কথাও শোনা গেলেও, অধিকাংশ সূত্রই বলছে ছবিটি চার ঘণ্টার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। যদি এই রানটাইম বজায় থাকে, তাহলে গত প্রায় আড়াই দশকে হিন্দি ছবির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ ছবির তালিকায় জায়গা করে নেবে এটি। সেই তালিকায় এখনও শীর্ষে রয়েছে এলওসি কার্গিল, যেটি পরিচালনা করেছিলেন জে.পি. দত্ত এবং যার দৈর্ঘ্য ছিল ৪ ঘণ্টা ৭ মিনিট। তাহলে ধুরন্ধর ২  সময়ের দিক থেকে ছাড়িয়ে যেতে পারে অস্কার-মনোনীত ক্লাসিক লগান ছবিটিকেও, যার দৈর্ঘ্য ছিল ৩ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট।

 

নিজের সঙ্গে যুদ্ধ!

সাফল্যের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা তারকার হাসির আড়ালে কতটা লড়াই লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। সম্প্রতি সেই অদেখা লড়াইয়ের কথাই সামনে আনলেন বলিউডের তরুণ অভিনেতা আহান পাণ্ডে। সাইয়ারা মুক্তির পর যখন তিনি সাফল্যের স্বাদ উপভোগ করছেন, তখনই ব্যক্তিগত জীবনে শুরু হয়েছিল অন্য এক যুদ্ধ -নিজের শরীরের সঙ্গে যুদ্ধ। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, ছবির মুক্তির অল্পদিনের মধ্যেই তাঁকে কঠিন কাঁধের অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা তিনি সেই সময় পুরোপুরি গোপন রেখেছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগের এক দুর্ঘটনা থেকে। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর কাঁধে চোট লাগে। এক ধরনের গুরুতর আঘাত, যা তাঁর শরীরচর্চা ও শারীরিক প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সামনে ছিল বড় পরিকল্পনা, নতুন ছবি, নতুন চরিত্র। ফলে আঘাতকে উপেক্ষা না করে তিনি অস্ত্রোপচারের পথই বেছে নেন।অভিনেতার কথায়, অস্ত্রোপচারটি ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং দীর্ঘ পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন ছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অপারেশনের পর তাঁর শরীরের সমস্ত শক্তি ও ফিটনেস কার্যত শূন্যে নেমে আসবে। অর্থাৎ নতুন করে শুরু করতে হবে সবকিছু।এই সতর্কবার্তা অনেকের মনোবল ভেঙে দিতে পারত। কিন্তু আহানের ক্ষেত্রে সেটাই হয়ে ওঠে প্রেরণা।