কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ঘন্টাখানেক আগেই শববাহী গাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে রাহুলের মৃতদেহ। বাড়ি থেকে, একেবারে আড়ম্বরহীনভাবেই রাহুলের দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে শ্মশানে। মাঝখানে কোনও জায়গাতেই -স্টুডিও অথবা প্রেক্ষগৃহের চত্বর, কোথাও শায়িত রাখা হয়নি রাহুলের দেহ। পদযাত্রা করে রাহুলের শববাহী গাড়ি পৌঁছেছে সেখানে, সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধরের নেতৃত্বে। গোটা পদযাত্রা জুড়ে বামপন্থী সমর্থকেরা উঁচু গলায় গেয়ে চলেছিলেন ‘ইন্টারন্যাশনাল’ গান।  সাদারঙা কুর্তিতে শ্মশানে দেখা গেল অভিনেতার  স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে। সঙ্গে তাঁদের ছেলে সহজ।  অভিনেত্রীর পাশে দেখা গেল সায়নী ঘোষ, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়দের। তাঁদের ঘিরে ছিল আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা বলি। বহুদূর থেকে এসে পৌঁছেছিলেন রাহুলের স্কুলের বন্ধুরাও। তবে স্কুলের বন্ধুকে শেষ দেখা দেখতে পাননি তাঁরা। যতক্ষণে নিরাপত্তা বলি কোনওমতে পেরোতে পেরেছিলেন তাঁরা, ততক্ষণে  রাহুলকে দাহ করার জন্য ভিতরে নিয়ে চলে যাওয়া হয়। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া। একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরে। কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে।  ছেলে সহ্যের সঙ্গে সেখানে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা।  এছাড়া শ্মশান জুড়ে রয়েছেন  আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা এবং অনুরাগীরা। 


জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকস্মাৎ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না প্রায় কেউই। জানা গিয়েছে, ২৯ মার্চ রবিবার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতার! রবিবার সন্ধ্যাতেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। ওড়িশার তালসারি সংলগ্ন অঞ্চলের সমুদ্রে বোটে চেপে ঘোরার সময় বোট থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে উদ্ধার করে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে অভিনেতাকে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসকের দল।


অন্যদিকে বিজয়গড় অঞ্চলের মানুষের কাছে রাহুল কোনও বড় তারকা নন, ছিলেন শুধুই পাড়ার ছেলে ‘বাবিন’। তাঁর অমায়িক ব্যবহার আর হাসিমুখের স্মৃতি হাতড়ে এদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন শুধুই প্রিয় অভিনেতাকে হারানোর হাহাকার।