১৫ বছর আগে বাংলা ধারাবাহিকের দুনিয়ায় রাজ করত সুইট মেলোডি প্রযোজনা সংস্থা। 'কুরুক্ষেত্র', 'তমসারেখা', 'বহ্নিশিখা' একের পর এক হিট ধারাবাহিক৷ কিন্তু তারপর আর দেখা যায়নি এই প্রযোজনা সংস্থার কোনও কাজ৷ কারণ কী? খোঁজ নিয়েছিল আজকাল ডট ইন।  

'সুইট মেলোডি'র প্রযোজক অতনু রায় আজকাল ডট ইন-এর কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তাঁর কেরিয়ার নষ্টের মূলে রয়েছেন 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'। অরুপ বিশ্বাস আর স্বরূপ বিশ্বাস। 

আজকাল ডট ইন জানতে চেয়েছিল, ২০১১ এর আগে টলিউড কেমন ছিল? ফেডারেশনের নিয়ম কানুন কেমন ছিল? 

অতনু রায় বলেন, "তাঁর আগে ফেডেরেশানের চিত্রটা ছিল অন্যরকম৷ কে ফেডারেশনের সেক্রেটারি,  কে শিল্পী, কে কলাকুশলী কিছুই বোঝা যেত না। এত সুন্দর একটা পরিবেশ ছিল। ফেডারেশনকে জানিয়ে শুটিং করতে হবে, ফেডারেশন ঠিক করে দেবে কারা কাজ করবে কতজনের টিম হবে, এরকম কোনও নিয়ম ছিল না বলেই জানান অতনু রায়৷" 

এই প্রসঙ্গে অতনু রায় বলেন, "ভিডিও গিল্ডের সঙ্গে একবার সমস্যা হয়েছিল৷ আমি প্রতিবাদ করেছিলাম৷ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।  তিনি এই বিষয় সমঝোতা করেছিলেন৷ বুদ্ধবাবু বলেছিলেন, প্রযোজকেরা যে টেকনিশিয়ান নিয়ে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ, তাঁর সঙ্গেই কাজ করবেন৷ এবং সেইসময় সমস্যা মিটেও গিয়েছিল৷ ফেডারেশনের সঙ্গে আমাদের প্রত্যেক প্রযোজকের সম্পর্ক খুব ভাল ছিল৷" 

রাজনীতির প্রসঙ্গে এবং ব্যান কালচারের প্রসঙ্গে অতনু রায় বলেন, সব দলের লোকই সেটে মিলেমিশে কাজ করতেন৷ রাজনীতি নিয়ে মজার ছলে তর্ক হত, কিন্তু দিনের শেষে দুই রাজনৈতিক দলের মানুষ একসঙ্গে হাত ধরে বাড়িও ফিরে যেত৷ এমনই সুন্দর ছিল পরিবেশ৷ "


অতনু রায় বলেন, "আমার এত বছরের কেরিয়ারে আমি ফেডারেশনের নাকগলানো বিষয়টা দেখিনি এর আগে৷ আজকে যে টলিউড নিয়ে, যে টেলিভিশন ইন্ড্রাস্ট্রি নিয়ে অরূপ বিশ্বাস স্বরূপ বিশ্বাস এত বড়বড় কথা বলেন, সেই ইন্ডাস্ট্রিটা আমি নিজে হাতে তৈরি করেছি৷ এটা কোনও অহংকার নয়৷ আমি যখন কাজ করেছি একঝাঁক নতুন শিল্পী উঠে এসেছে৷ ফেডারেশনকে তখন আমি বন্ধু হিসাবেই জানতাম৷  কিন্তু ফেডারেশন যে ঠিক করে দেয়, কোন টেকনিশিয়ান কাজ করবে, কে করবে না, কতজন যাবে, এসব ছিল না৷"


অতনু রায় তাঁর কাজ না থাকার প্রসঙ্গে বলেন, তিনি রাজনৈতিক হিংসার শিকার৷ তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি৷ তৃণমূল জমানায় টলিউডে যে কোনও কাজ করার আগে ফেডারেশনের অনুমতি নিতে হত৷ ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি৷ অতনু রায়ের অভিযোগ, স্বরূপ বিশ্বাস তাঁকে কাজ করতে দেননি৷