নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যখন গোটা পৃথিবী আনন্দে মেতে উঠেছে, তারকারাও একে একে জানিয়েছেন শুভেচ্ছা। সেই তালিকায় নাম গতকাল-ই লিখিয়েছিলেন টলিপাড়ার অন্যতম স্তম্ভ, পরিচালক-অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলি। দীর্ঘ কয়েক দশকের সিনে-পথচলায় অসংখ্য স্মরণীয় কাজ উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে এই পোস্টের বার্তা বাক্সে ফুরফুরে শুভেচ্ছার সুর একটু হলেও কেটে গেল। এক নেটিজেন অভিযোগ তুললেন, কৌশিক গাঙ্গুলির ছবিতে কাজ করেও পারিশ্রমিক পাননি। সেই কাজ তিনি করেছেন, তা-ও হয়ে গেল বছর তিনেক! ছবির নাম অসুখ বিসুখ। কমেন্টটি চোখে পড়ামাত্রই পাল্টা জবাব দিয়েছেন কৌশিক। আপাতত এই বিষয়টি নিয়ে এখন চর্চা চলছে নেটপাড়ায়।
ঠিক কী লিখেছেন অভিযোগকারী? মানব চৌধুরী নামের ওই নেটিজেন কৌশিক গাঙ্গুলির উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “দুই বছর আগে অসুখ বিসুখ ফিল্ম তৈরি করেছিলেন ২০২৪ সালে । যার জুনিয়র আর্টিস্ট বিল ৩ লক্ষ্য ২০ হাজার টাকা আজও হাউস এর কাছে বাকি পরে আছে । বিল হাউস থেকে হাউস ঘুরে বর্তমান এ এসে স্তব্দ হয়েছে এক স্বনামধন্য হাউস এ, অথচ সেই হাউস এর সঙ্গে আপনি পরে কাজ করেছেন । এটা নিয়ে ভাবনা কি একটু হলেও আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? ভেবে দেখবেন সময় পেলে।”

(পোস্টের বানান অপরিবর্তিত রাখা হল।)
দেখামাত্রই কৌশিকের পাল্টা জবাব, “সেই প্রযোজকের আর কোনো কাজ করিনি। ঐ সংস্থা ছবিটি আরেকজনকে বিক্রি করে চলে গেছে। প্রথম প্রযোজককে আমিও যোগাযোগ করে পাইনি। কারণ তার কাছে আপনার মতো আমারও বিস্তর পাওনা! আমরা দুজনেই প্রার্থনা করি যদি কপালে জোটে ঐ টাকা! ভালো থাকবেন।”

(পোস্টের বানান অপরিবর্তিত রাখা হল।)
প্রসঙ্গত, অঙ্কুশ, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ইশা সাহা এবং সায়নী গুপ্ত অভিনীত এই ছবি এখনও মুক্তির আলো দেখেনি। প্রথমে ছবিটির প্রযোজক শ্যামসুন্দর দে’র সংস্থা ‘শ্যাডো ফিল্মস’। তবে শুটিং শেষ হওয়ার একেবারে শেষমুহূর্তে এই ছবিটির সঙ্গে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয় সুরিন্দর ফিল্মস। ইন্ডাস্ট্রিতে বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়েও শ্যামসুন্দরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। সাধারণত টলিপাড়ায় কোনও প্রজেক্টের দু’জন প্রযোজক হলে শুরুতেই তাঁদের নাম ঘোষণা করেন নির্মাতারা। প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কৌশিকের সুসম্পর্কের কথা ইন্ডাস্ট্রির সকলেরই জানা। অনেকের মতে, কৌশিকের এই ছবিটির স্বার্থেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। জানিয়ে রাখা ভাল, এ ছবিতে অঞ্জন দত্তের অভিনয় করার কথা থাকলেও, পরে তিনি এই ছবি ছেড়ে বেরিয়ে যান। সেই চরিত্রে তারপর নিজেই অভিনয় করেছিলেন কৌশিক।

অন্যদিকে, ফেসবুকের ওই পোস্টে কৌশিকের বার্তায় উঠে এসেছে এক গভীর উপলব্ধিও - "ছোট মানুষের গল্প, উপেক্ষিত চরিত্র, কিংবা কল্পনার অচেনা জগত...এই সবের মধ্য দিয়েই ফুটে উঠুক সময়ের সামাজিক বার্তা। জীবনী বইয়ে পড়া যায়, কিন্তু জীবনের গল্প পর্দায় অনুভব করা যায়, এটাই সিনেমার শক্তি। তাই তাঁর বিশ্বাস, জোর করে শিল্প জনপ্রিয় করা যায় না; মানুষের আবেগই তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। ঠিক তেমনই ইতিহাসও জোর করে লেখা যায় না। নিজের সময়েই নীরবে তৈরি হয় তার নিজস্ব জায়গা।
গ্রাম থেকে শহর, সিনেমার দর্শক যেন আরও জেগে ওঠে, এটাই কামনা তাঁর। নির্মাতাদের দায়িত্ববোধই পারে সেই ঘুম ভাঙাতে এমনটাই বার্তা কৌশিকের। তাই রুচি, শিক্ষা, মেধা আর দায়িত্ববোধকে সঙ্গী করেই কাজ করতে চান তিনি। আর নতুন বছরে তাঁর একটাই প্রার্থনা, দর্শকের ভালবাসা যেন নৌকোর পালে হাওয়া হয়ে থাকে।
