'ঠাকুমার ঝুলি খুলবে, মজার মজার গল্প...' রবিবার মানেই ৮০-৯০ দশকের ছেলেমেয়েদের কাছে 'ঠাকুমার ঝুলি' দেখার নেশা। ফিরছে 'ঠাকুমার ঝুলি'। তবে অন্য ভাবে। এই ঠাকুমা আবার শখের গোয়েন্দা! বড়ই বিচক্ষণ। কিন্তু বুদ্ধির ধার দিয়ে খুনি ধরতে পারবে?
হইচই প্ল্যাটফর্মে আসতে চলেছে 'ঠাকুমার ঝুলি'। এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মের আসন্ন অরিজিন্যাল সিরিজে ঠাকুমার ভূমিকায় দেখা যাবে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে। এই সিরিজের হাত ধরেই তিনি ওয়েব দুনিয়ায় পা রাখছেন। তাঁর সঙ্গে নাতনি হিসেবে থাকবেন দিব্যানী মণ্ডল। সিরিজ মুক্তির আগে এদিন প্রকাশ্যে এল ঝলক।
'ঠাকুমার ঝুলি' সিরিজের ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে অল্প বয়স থেকেই গিরিজাবালা দেবী বেশ বিচক্ষণ। চোখ, কান, নাক খোলা থাকে তার সর্বদা। আবার মজার মানুষও বটে। একাই তিনি তাঁর সংসার সামলান। আর আছে এক নাতনি। সেই নাতনি আসার পর খুন হয় তার বিড়াল। শুধু তাই নয়, প্রতাপ সিংহ রায়ের ভাইজির বিয়েতে গিয়েও এক অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে যান। বিবাহ বাসরে মৃত্যু হয় কনের। কিন্তু সেটা কি নিছক মৃত্যু নাকি খুন? পুলিশের পাশাপাশি সেই নিয়ে গোয়েন্দাগিরি শুরু করে গিরিজাবালা।
প্রতিশোধ নিতে খুন? নাকি রাগের মাথায় ঘটেছে যা ঘটেছে? সিংহ রায় বাড়িতে লুকিয়ে কোন রহস্য? এক মৃত্যু বেড়ে হয় তিন। সমস্ত খুনের কিনারা করতে পারবে ঠাকুমা? সেই উত্তর দেবে সিরিজ। তবে ঝলক জুড়ে মজা, অ্যাকশন, রহস্য ঠাসা।
ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই মুগ্ধ দর্শক। কেউ জানিয়েছেন শ্রাবন্তীর অভিনয় সেরা লেগেছে, আবার কারও মতে, এটাকে 'ঠাকুমার ঝুলি'র বদলে 'ঠাকুমার গোয়েন্দাগিরি' নাম দেওয়া উচিত ছিল। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে এই সিরিজ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে।
আগামী ২০ মার্চ মুক্তি পাচ্ছে 'ঠাকুমার ঝুলি'। মুখ্য ভূমিকায় শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, দিব্যানী মণ্ডলকে দেখা যাবে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, লোকনাথ দে, দেবরাজ ভট্টাচার্য, প্রমুখ। অয়ন চক্রবর্তী সিরিজটি পরিচালনা করেছেন।
এই সিরিজে শ্রাবন্তীকে দেখা যাচ্ছে গিরিজাবালা সান্যাল চরিত্রে - যিনি বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা, ষাটের কোঠায় পৌঁছনো এক তীক্ষ্ণবুদ্ধি, সংযত ও গভীর পর্যবেক্ষণক্ষম নারী। শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও নীরব সহনশীলতায় গড়া তাঁর জীবন। অল্প বয়সেই স্বামীকে হারানো, পরে একমাত্র ছেলের মৃত্যু। এই দীর্ঘ শোক তাঁকে শিখিয়েছে কম কথা বলে বেশি দেখতে। সেই অভ্যাসই তাঁকে মানুষের মন ও পরিস্থিতি বুঝতে অসাধারণ দক্ষ করে তুলেছে। তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী তিনটি বিড়াল। ‘হরি’, ‘বেলা’ ও ‘ফোঁটে’ -যারা তাঁর সংযত জীবনে এক নরম খামখেয়ালি স্পর্শ। গল্পের মোড় ঘোরে যখন তাঁর নাতনি যাজ্ঞসেনী (অভিনয়ে দিব্যানি মন্ডল), ক্রিমিনাল সাইকোলজি-র ছাত্রী এবং সান্যাল পরিবারের শেষ উত্তরাধিকারী, ভারতে ফিরে আসে ঘনিষ্ঠ বন্ধু অম্রপালি সিংহ রায়ের বিয়েতে যোগ দিতে।
