গ্ল্যামার জগতের ঝকঝকে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে হাড়ভাঙা খাটুনি আর চরম ক্লান্তির গল্প মাঝেমধ্যেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন বলিউডের ‘খাল্লাস গার্ল’ ইশা কোপিকর। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে ছোটপর্দার জনপ্রিয় কমেডিয়ান ভারতী সিং-ও ফাঁস করলেন ইন্ডাস্ট্রির অমানবিক কাজের চাপের কথা।

ইশা জানান, কেরিয়ারের শুরুর দিকে একবার টানা পাঁচ দিন এক মুহূর্তের জন্যেও ঘুমানোর সুযোগ পাননি তিনি। একের পর এক শিফটে কাজ করতে করতে তাঁর শরীর আর দিচ্ছিল না। ইশা বলেন, "পাঁচ নম্বর দিনে এসে আমি আক্ষরিক অর্থেই আমার শরীর ভেঙে পড়ে। সেটে কাজ করতে করতেই আমি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম।" অভিনেত্রী জানান, সেই সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিশ্রাম নেওয়ার কথা ভাবারও অবকাশ থাকত না। প্রযোজকদের ডেট দেওয়া মানেই ছিল ঘড়ির কাঁটার তোয়াক্কা না করে কাজ করে যাওয়া।

ইশার এই অভিজ্ঞতার কথা শুনে ভারতী সিং বর্তমান সময়ের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অবস্থার কথা তুলে ধরেন। ভারতী বলেন, "আমাদের এই পেশায় অবস্থা এমন যে, অজ্ঞান হওয়ার ঠিক ১৫ মিনিট আগে পর্যন্ত আমরা কাজ করে যাই।" ভারতী আরও জানান, অনেক সময় শরীরে প্রচণ্ড জ্বর বা অসুস্থতা থাকলেও ক্যামেরা চললে হাসিমুখে পারফর্ম করতে হয়। কারণ, কোটি কোটি টাকার লগ্নি আর কয়েকশ মানুষের রুজি-রুটি সেই শুটিংয়ের ওপর নির্ভর করে।

ভারতী রসিকতা করে বলেন যে, বিনোদন জগতে ‘বিশ্রাম’ শব্দটা ডিকশনারিতে থাকলেও বাস্তবে তার দেখা পাওয়া ভার। বিশেষ করে রিয়্যালিটি শো বা ডেইলি সোপের ক্ষেত্রে শিডিউল এতটাই টাইট থাকে যে, শিল্পীদের নাওয়া-খাওয়ার সময়টুকুও জোটে না।

ভারতী ও ইশার এই আলাপচারিতা এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনদের একাংশ আবার তাঁদের কথার সঙ্গে দীপিকা পাড়ুকোনের আট ঘণ্টার শিফটের দাবিকে মিলিয়ে দিয়েছেন। তাই ফের চর্চায় টিনসেল টাউনের 'শিফট-বিতর্ক'।