ব্যক্তিগত জীবন থেকে পেশাদার সিদ্ধান্ত, সবকিছু নিয়েই এবার অকপট অভিনেতা গুলশন দেওয়াইয়া। প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগানো থেকে শুরু করে যশ অভিনীত বহুচর্চিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোনআপস’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া, এমনকী মাঝপথে একটি ছবি ছেড়ে বেরিয়ে আসার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত সব নিয়েই খোলামেলা কথা বললেন তিনি।

সম্প্রতি, দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুলশন জানান, ২০২০ সালে ডিভোর্সের পর চার বছর কেটে গেলেও প্রাক্তন স্ত্রী (অভিনেত্রী কাল্লিরই ত্সিয়াফেত্তার)-র সঙ্গে তাঁর মধ্যে সম্পর্কের সুতো পুরোপুরি ছিঁড়ে যায়নি। আট বছরের দাম্পত্য ভাঙার পর এখন তাঁরা আবার একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, অর্থাৎ ডেটিং করছেন। গুলশনের কথায়, এই পুনর্মিলন সম্ভব হয়েছে নিজেদের আত্মবিশ্লেষণ, ব্যক্তিগত পরিণতিবোধ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাপল থেরাপির মাধ্যমে।

“এর একটা বড় অংশ এসেছে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলার মাধ্যমে,” বলেন গুলশন। তাঁর সংযোজন, থেরাপি এখনও তাঁদের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। সম্পর্ককে নতুন করে বোঝা ও গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিই তাঁদের সাহায্য করেছে।
গুলশনের সেই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য। গুলশন স্বীকার করেন, গীতু মোহান্দাস পরিচালিত এবং যশ অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক’ ছবির প্রস্তাব তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ছবি করতে পারেননি। অভিনেতার বক্তব্য, “বিভিন্ন কারণেই বিষয়টা এগোয়নি। মূলত ছবির শিডিউলিং হয়ে দাঁড়িয়েছিল সমস্যা। এত বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লেভেলের ছবি তখনকার কাজের সঙ্গে সামলানো সম্ভব হচ্ছিল না।”
কেরিয়ারের কঠিন সময় নিয়েও কথা বলতে দ্বিধা করেননি গুলশন। তিনি জানান, একসময় একটি ছবি মাঝপথেই ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল তাঁকে। কারণ? পারিশ্রমিক না পাওয়া এবং অপেশাদার আচরণ। “ওরা আমাকে টাকা দেয়নি, আমার ম্যানেজারের সঙ্গেও খুব খারাপ ব্যবহার করেছিল,” বলেন তিনি। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের চুক্তিপত্র খুঁটিয়ে দেখেছিলেন বলেও জানান অভিনেতা।
বর্তমানে ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’ ছবির সাফল্যের রেশ উপভোগ করছেন গুলশন। কিন্তু এই বিশাল সাফল্যও তাঁর কাজ বাছার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারেনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কাজের স্কেল নয়, প্রকৃত আগ্রহই তাঁর কাছে শেষ কথা। “আমার কেরিয়ারে যদি বৈচিত্র্য চাই, তাহলে সেটার পিছনে আমাকে ছুটতেই হবে,” বলেন তিনি।
'কান্তারা'র পর আবার কন্নড় ছবিতে ফিরতে কেমন লাগছে? এই প্রশ্নে খানিক দ্বিধার কথাও স্বীকার করেন গুলশন। জানান, ছবির প্রস্তাবের সংখ্যা বাড়লেও কান্তারা–র পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা সহজ নয়। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে প্রতিটি সিদ্ধান্ত খুব ভেবেচিন্তেই নিতে চাইছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা হোক বা কেরিয়ারের কঠিন সিদ্ধান্ত, গুলশন দেবায়াইয়ার এই অকপট স্বীকারোক্তি স্পষ্ট করে দেয়, তিনি শুধু পর্দার অভিনেতা নন, বাস্তব জীবনেও নিজের শর্তেই চলতে ভালবাসেন।
