বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দা কি সত্যিই দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন? গত কয়েকদিন ধরে নেটদুনিয়ায় এই প্রশ্নটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হচ্ছিল যে, 'চিচি' আর্থিক সংকটে এতটাই জর্জরিত যে তিনি নাকি বর্তমানে 'রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন'। তবে এই সমস্ত মুখরোচক চর্চায় এবার জল ঢাললেন অভিনেতার ভাগ্নে বিনয় আনন্দ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, মামার দেউলিয়া হওয়ার খবরগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং স্রেফ গুজব।


গত কয়েক দশকে রূপালী পর্দায় গোবিন্দা মানেই ছিল বিনোদনের ফুলঝুরি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বড়পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কমে আসায় এবং কিছু পুরনো আইনি জটিলতার জেরে নেটিজেনদের একাংশ রটিয়ে দেয় যে, অভিনেতা নিজের সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে ফেলেছেন। কেউ কেউ আবার একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, তাঁর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স এখন শূন্যের কোঠায়।


এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিনয় আনন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গোবিন্দার বর্তমান অবস্থা নিয়ে চলা আজেবাজে আলোচনার জবাবে বিনয় বলেন, “উনি একজন সুপারস্টার। গোবিন্দা আজ যেখানেই গিয়ে দাঁড়াবেন, অনায়াসেই ২৫-৩০ লাখ টাকা রোজগার করতে পারবেন। যারা ওঁকে 'গরিব' বলছে, তারা আসলে বোকা। লোকে লিখছে গোবিন্দা নাকি পথে বসে গিয়েছেন, ওঁর সঙ্গে খুব খারাপ কিছু হয়েছে— আরে পাগলের দল, তোমরা কার সম্পর্কে এসব আজেবাজে কথা বলছো? উনি নব্বই দশকের সেই সুপারস্টার, যিনি তখন একটি ছবির জন্য কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিতেন।”


বিনয় ট্রোলারদের ইঙ্গিত করে বলেন যে, গোবিন্দা যখন কেরিয়ারের তুঙ্গে ছিলেন, তখনকার পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। তাঁর কথায়, “যখন লোখান্ডওয়ালায় মাত্র ১২-১৩ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট পাওয়া যেত, তখন গোবিন্দা এক একটি ছবির জন্য ১ কোটি টাকা নিতেন।”

বিনয় আরও বলেন, “৭০-৮০টা ছবি করার পর, উনি মাত্র ৫টি ছবি থেকে যা আয় করেছেন, তা অনেকের সারাজীবনের আয়ের চেয়েও বেশি। কে জানে অন্য কত তারকা হয়তো সত্যিই আর্থিক সংকটে আছেন, কিন্তু গোবিন্দার ক্ষেত্রে তা অসম্ভব।”


মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এসব গুজবে বিরক্ত হয়ে বিনয় বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ কেমন! সোশ্যাল মিডিয়া কী ধরণের গল্প লেখা হচ্ছে? আমি সত্যিই অবাক হই। তবে এটাও এক ধরণের পাবলিসিটি। আমি যখনই সোশ্যাল মিডিয়া খুলি, দেখি সব জায়গায় শুধু গোবিন্দাজি। একেই বলে সত্যিকারের স্টারডম!”