সুস্মিতা রায় সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন। জানান তিনি সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিকৃত যৌনতার শিকার। এছাড়াও আরও একাধিক অভিযোগ আনেন। এবার সব্যসাচী প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথা লিখলে কী জানালেন সুস্মিতা রায়?
সব্যসাচীর মতো সুস্মিতাও কি আইনি পথে হাঁটছেন? আজকাল ডট ইনকে অভিনেত্রী বলেন, "মানহানির মামলা তো আমারই করা উচিত। এখনও অবধি ভাবিনি। ওরা দেখছে ওদের তরফ থেকে এতদিন আমায় যে জিনিসগুলো নিয়ে ব্ল্যাকমেল করছিল সেই কথাগুলো তো আমি নিজে এসে স্বীকার করেছি। নিজেরটাও বলেছি, তারপরে গিয়ে ওদেরটাও বলেছি। যে সাহসটা মানুষের দরকার হয়, আগে নিজেকে ছোট করা তারপর সবারটা বলা, সেটা আমি দেখিয়েছি। ওর এই পোস্টগুলো যদি লক্ষ্য করো দেখবে শুধু আমারটাই বলেছে। ওদের তরফে কোনও স্বীকারোক্তি নেই, উল্টে এক্সট্রা কিছু গল্প বানানো হয়েছে, যখন আর কোনও উপায় নেই। যে যে কথাগুলো ওরা লিখেছে, আমি যা বলেছি সেটাকে উল্টো করে দিয়েছে। এতে মানুষ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবে যে তাহলে কারটা সত্যি এটা ভেবে। এই অপশনটাই ফাঁকা আছে ওদের, সেটাই করছে। এখনও দমেনি, সায়ক আজও অনেকের পোস্টে নেতিবাচক মন্তব্য করেছে।"
সুস্মিতা এদিন আরও বলেন, "মানহানির মামলা করতে হলে আমাকে শুরুতেই করতে হতো, যখন সায়ক ওই পোস্টটা লিখেছিল। এবার থাম এই পোস্টের মাধ্যমে তো ওই সোশ্যাল মিডিয়ায় বলতে চাইল যে আমার অনেকগুলো বিয়ে। এগুলো তখন করল যখন আমি সদ্য একটা নতুন সংসারে প্রবেশ করলাম। এখানেই ওদের উদ্দেশ্য পুরো পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।" তাঁর আরও সংযোজন, "আমার ডিভোর্স বা সেপারেশনের পরেও অনেক কথা হয়েছে, আমি এতদিন চুপ করে ছিলাম। মানুষ আমাকে বাজা পর্যন্ত বলেছে। আমার মায়ের দিকে আঙুল উঠেছে, সে নাকি দায়ী। আমার ফ্ল্যাটকে নিজেদের বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি এগুলোর কোনওটাকেই পাত্তা দিইনি। আমার এদিকে ব্যবসার প্রচুর চাপ ছিল। আমি সায়কের পোস্টের পরেও কিছু বলতাম না। সব্যসাচী আমায় হুমকি দিয়ে মেসেজ করার পর সায়ককে ওটা পাঠিয়েছিলাম, বললাম যে তোর দাদা কিন্তু এখনও এই সব করছে। তাতে ও বলল আমি সব ঠিক করে দেব। আমি ওকে বলি ঠিক যদি করতে হয় তুই এখনই আয়, সামনে বসে ব্যাপারটি মেটা। ও অর্ধেক রাস্তা চলেও আসে। কিন্তু ওর দাদা কী বলল যে ও ফিরে যায়। তখন আমি বলি যে আজই এটা মেটাতে হবে, নইলে আমি লাইভে আসব।"
এই বিষয়ে সায়ক সমাজমাধ্যমেই প্রশ্ন তোলেন সুস্মিতার সেদিন উদ্দেশ্য কী ছিল তাঁকে ডাকার? এর জবাবে
অভিনেত্রী এদিন বলেন, "যে যেরকম মানসিকতার হবে, সে সেরকমই ভাববে। আপন যেরকম, জগৎ সেরকম ভাববে। আর এই ৪টে বিয়ে ৪টে বিয়ে করার পর থেকে লোকজন ভাবছে আমি বোধহয় বিষয়টাকে এন্টারটেইন করেছি। আমি একজনকে বিয়ে করেছি, তার সঙ্গে সুন্দর থেকে, সুবিধা নিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করে ছেড়ে দিয়ে আবার অন্য একজনকে বিয়ে করেছি। ব্যাপারটা তো সেটা নয়। ১৮ বছর আগে দুর্ঘটনাবশত অনেক কিছু হয়েছে। সেটা তো প্রকাশ্যে আমি কিছু বলিনি। এইগুলোর মধ্যে দিয়ে যদি মানহানির মামলা করার হয়, সেটা আমার করা উচিত ছিল।"
প্রসঙ্গত সুস্মিতা রায় এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁদের বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি তিনি তাঁর ব্যবসার পার্টনার শুভাশিসের সঙ্গে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে গাঁটছড়া বেঁধেছেন।
