রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর সম্প্রতি বৈঠকে টলিউডের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স সংস্থার সঙ্গে কোনও শিল্পী বা টেকনিশিয়ান কাজ করবেন না। যতদিন না অভিনেতার মৃত্যুর তদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে, কেন এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল, কীভাবে রাহুল মারা গিয়েছে জানা যাচ্ছে ততদিন নিষিদ্ধ থাকবে এই সংস্থা। যার জেরে একধাক্কায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক ধারাবাহিক। 'ভোলে বাবা পার করেগা', 'কনে দেখা আলো', 'চিরসখা', ইত্যাদির মতো ধারাবাহিকের শুটিং ৭ এপ্রিল থেকে বন্ধ। কাজ হারালেন বহু অভিনেতা, টেকনিশিয়ান। 'ভোলে বাবা পার করেগা' সিজন থ্রির নায়িকা হিসেবে দেখা যেত বর্ণিনী চক্রবর্তীকে। আচমকা ধারাবাহিক বন্ধ হওয়ায় আজকাল ডট ইনের কাছে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
এদিন বর্ণিনী কাজ বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, "একটা কাজ বন্ধ হলে একটা কাজ শুরু হবে। এমনিও বলা হয় সব দরজা বন্ধ হলে, একটা দরজা ঠিকই খোলে। আমার জন্য ব্যক্তিগত ভাবে কোন দরজা খোলা হচ্ছে, বা খোলা থাকবে/আছে সেটা তো আমি জানি না। আর্টিস্ট ফোরামের ভারপ্রাপ্ত যাঁরা আছেন, তাঁরা একটা তদন্তের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই কাজ বন্ধ। একটা কাজ বন্ধ হয়েছে, আরেকটা কাজ যাতে আসে, সেটার অপেক্ষা করব। আমি এমনই তো একটি ধারাবাহিক করছিলাম, সেটা তো ছেড়ে দিইনি। দেখা যাক।"
তদন্তের জন্য একসঙ্গে এতগুলো ধারাবাহিক বন্ধ, এত মানুষ কাজ হারালেন, সেটা কি সমর্থন করেন বর্ণিনী? এই বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট জবাব, "কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়াটাকে কখনই সমর্থন নয়। আমি আমার বাড়ির আর্নিং মেম্বার। কাজ বন্ধ হয়ে গেলে আমি খাব কী? কাজ করতে হবে। নতুন কাজ হিসেবে ওটা শুরু করেছিলাম। কাজ বন্ধ হওয়া সবারই একটা সমস্যার জায়গা, বিশেষ করে যাঁরা বাড়ির আর্নিং মেম্বার। তবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটাকেও অবশ্যই সমর্থন করি।" বর্ণিনীর সংযোজন, "তদন্ত হোক, সঠিক বিচার হোক, সেই জন্যই এই সিদ্ধান্তে সহমত। রাহুল দাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতাম না, কিন্তু মানুষটাকে ভীষণ সম্মান করি। এত সিনিয়র একজন হিসেবে ওঁর সব কাজ দেখা, কথা শুনতে ভাল লাগত। সেই মানুষটার চলে যাওয়া একটা বিশাল ক্ষতি। দুঃখজনক বিষয়। আজকে রাহুল দা অনেক কিছু বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে। শিল্পী হিসেবে কাজ করি, কিন্তু তার সঙ্গে নিরাপত্তা দরকার। কখন কী দরকার বলা যায় না। সেই জন্য বড়রা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা সমর্থন করি।"
প্রসঙ্গত, ৭ এপ্রিল স্তব্ধ ছিল টলিউড। আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, ইম্পার ডাকা বৈঠকে হাজির থাকার কথা ছিল চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজকদের। প্রযোজকরা এলেও হাজির ছিল না চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। এই বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিকেলে ঘোষণা করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান টিভি এবং সিনেমার জন্য আলাদা আলাদা ইন্স্যুরেন্স হবে। এছাড়া ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও প্রতিষ্ঠান ব্যানড। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ওই প্রযোজনা সংস্থার কারও সঙ্গে কোনও কাজ এই মুহূর্ত থেকে করব না। যতক্ষণ না প্রকাশ্যে বা কোর্ট থেকে জানতে পারি আমাদের রাহুল, আপনাদের রাহুল কী করে আমাদের ছেড়ে গেল, কেন চলে ততক্ষণ নয়। আমাদের কারও সঙ্গে লড়াই নেই, ঝগড়া নেই। আমাদের এই পুরো পরিবার ঠিক করেছে পরিবারের (ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স) সঙ্গে কাজ করবে না, যারা আমাদের ঘরের ছেলেকে শেষ করে দিল। প্রকাশ্যে বলতে হবে কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল। সেটা প্রিয়াঙ্কাকে বলতে হবে যে সে মানল। ৯ দিন হয়ে গেল এখনও বলেনি কী ঘটেছিল।"
গত ২৯ মার্চ ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স প্রযোজিত ধারাবাহিক 'ভোলে বাবা পার করেগা' -এর শুটিংয়ে তালসারিতে গিয়েছিল টিম। সেখানেই শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর মৃত্যুর পর একদিকে যেমন শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তেমনই উক্ত প্রযোজনা সংস্থার তরফে বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করে। একই সঙ্গে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে তাদের যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, সেটার জবাব যথাযথ ছিল না। রাহুলের শেষকৃত্যে দেখা যায়নি প্রযোজনা সংস্থার কাউকে। বরং উল্টে রাহুলের মৃত্যুর সপ্তাহ ঘোরার আগে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের তৃতীয় সিজনের শুট শুরু করে দেওয়া হয় নতুন কাস্ট নিয়ে। এরপরই সকলেই বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ হন প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ৫ জনের নামে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এবং তালসারিতে অভিযোগ জানানো হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও।















