আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ১১৪-দমদম কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী ময়ূখ বিশ্বাসের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে তাঁর আর্থিক ও সামাজিক জীবনের এক স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে। প্রাক্তন সর্বভারতীয় ছাত্র নেতা তরুণ এই প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন সিপিএম কর্মীরা, নিজেও লাগাতার জনসংযোগে ব্যস্ত ময়ূখ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর প্রার্থীপদ এই হেভিওয়েট কেন্দ্রে বাম শিবিরে নতুন করে উদ্দীপনা জুগিয়েছে।
2
6
সর্বদা হাসিখুশি, পেশায় সর্বক্ষণের রাজনৈতিক কর্মী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ময়ূখের নিজের কোনও ঘরবাড়ি বা জমি নেই, এমনকি তাঁর নিজের নামে কোনও গাড়িও নেই। স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় তাঁর ঘর বা বসতভিটার ঘরও সম্পূর্ণ শূন্য।
3
6
সম্পত্তির খতিয়ান অনুযায়ী, ময়ূখ বিশ্বাসের নিজের কাছে নগদ রয়েছে ৮,০০০ টাকা এবং তাঁর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমানো আছে প্রায় ৫,৮৭,০০০ টাকা। প্রার্থীর নিজস্ব সোনার গয়নার পরিমাণ ১৫ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১,৭০,০০০ টাকা।
4
6
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ১০০ গ্রাম সোনা এবং বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প ও বিমা মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ওপর বিনিয়োগ। সব মিলিয়ে প্রার্থীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭,৭৮,০০০ টাকা।
5
6
শিক্ষার নিরিখে ময়ূখ যথেষ্ট উচ্চশিক্ষিত এবং কৃতি ছাত্র। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ভূগোলে স্নাতক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবাধিকার বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে বর্তমানে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চা বাগান শ্রমিকদের নিয়ে পিএইচডি করছেন। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি দলের পক্ষ থেকে দেওয়া মাসিক ভাতা এবং গবেষণার ফেলোশিপের কথা জানিয়েছেন।
6
6
রাজনৈতিক ময়দানে লড়তে গিয়ে তাঁর নামে মোট ৪টি মামলা জমা হয়েছে, যার মধ্যে বিধাননগর উত্তর, নিউ মার্কেট এবং হেয়ার স্ট্রিট থানার মামলা উল্লেখযোগ্য। তবে তিনি হলফনামায় স্পষ্ট করেছেন যে, কোনও মামলাতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। মূলত রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই এই মামলাগুলি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, দমদমের এই বাম প্রার্থী তাঁর সাধারণ জীবনযাপন, সবার সাথে মিশতে পারা ও উচ্চশিক্ষাকেই নির্বাচনি লড়াইয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।