রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই তোলপাড় টলিউড। ইম্পার কার্যনির্বাহী কমিটিতে বদল আসবে কিনা, আগামীতে এই সংগঠন কীভাবে কাজ করবে সেটা জানতে চেয়ে বারংবার বৈঠক ডাকার কথা বলছেন সংগঠনের একাধিক সদস্যরা। বুধবার তেমনই একটি বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু যে বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করতে চেয়েছিলেন সেটা হয় না। ফলে এবার শতদীপ সাহা, কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব জানিয়েছেন আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় মিটিং না ডাকা হলে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হবেন। 

এদিন ইম্পার বৈঠক শেষ হওয়ার কৃষ্ণ নারায়ণ দাগার সঙ্গে আজকাল ডট ইনের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্টই জানান, "আমরা কোর্টে যাব।" কিন্তু এদিকে তো তাঁরা ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন ইম্পাকে বৈঠক ডাকার জন্য। তবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওরা যদি মিটিং না ডাকে, তাহলে তো আমাদের কাছে আইনি পন্থা ছাড়া আর উপায় থাকবে না।" আজকে বৈঠকে প্রযোজকদের কী কী স্বাধীনতা দেওয়া হল সেটা ছাড়া আর অন্য কোনও বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে? ক্ষুব্ধ কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা বলেন, "না, না। ওরা কথাই বলতে চাইছে না। আলোচনা কী হবে।" 

এদিন তাঁরা তাঁদের এই চিঠিতে ইম্পার সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যে ক্রাইসিস চলছে তাতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৪ সেকশন মিটিং ডাকা হোক ইম্পাতে। সমস্ত প্রয়োজনীয় আয়োজন কোনও রকম টালবাহানা ছাড়া দ্রুত করা উচিত। এটা একটি সংগঠিত ডিম্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের তরফে। কোনও ভাবেই যেন এটিকে উপেক্ষা না করা হয়। যদি আপনি আপনার অফিসিয়াল কাজ না করতে পারেন, এবং চিঠি অনুযায়ী কাজ না করেন তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কারণ ইম্পার এই বর্তমান অবস্থা ইন্ডাস্ট্রিকে থমকে দিয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।' 

এদিনের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটা জানিয়ে ঋতব্রত ভট্টাচার্য বলেন, "ইম্পার প্রযোজক বিভাগের সদস্য হিসেবে যাঁরা রয়েছেন, যাঁরা ছবি করেন তাঁরা এবার থেকে তাঁদের পছন্দ মতো বাজেট, পছন্দের টেকনোলজি অর্থাৎ পছন্দের ক্যামেরাতে তাঁদের মতো করে ছবি করতে পারবেন। আর কোনও বাধা রইল না। তাদের যেমন যা টেকনিশিয়ান, কলাকুশলী দরকার সেভাবে ছবি করতে পারবেন। সম্পূর্ণ সমর্থন রইল।" 

অন্যদিকে এই বৈঠক নিয়ে অখুশি শতদীপ সাহা, কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা, প্রমুখরা। শতদীপ ক্ষোভ উগরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আজকের বৈঠকের বিষয় ছিল সদস্যরা কবে বৈঠকে বসবে। কিন্তু এঁরা আলোচনা করলেন প্রযোজকরা কোন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। আরে প্রযোজক সব করতে পারবে। প্রযোজক টাকা দিলে সব করতে পারবে, যাকে চায়, তাকেই নিতে পারবে। এটা মিটিং করার কী আছে? এগুলো তো আমরা করবই। এঁরা তো এত বছর অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন, কিন্তু এটা তো প্রযোজকের অধিকার যে তিনি তাঁর ছবিতে কাকে নেবেন, কী করবেন সেটা। আমরা সিনেমা প্রডিউস করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। অন্য কাজ করছিলাম। আমি সিনেমা হল চালাই, পরিবেশক, সেটা করছিলাম। তিন ঘণ্টা ধরে এসব আলোচনা করছেন? এভাবে খালি সময় অপচয় করছেন।"

এই জটিলতার মধ্যে ইম্পায় সিআরপিএফ জওয়ানরা এসে পৌঁছেছেন। এই জট কোন পথে কাটে এখন সেটাই দেখার।