রাজ্যে পালা বদলের পর থেকেই ইম্পায় বৈঠকের দাবি তুলেছেন সদস্যরা। একই সঙ্গে এবার এই সংগঠন কীভাবে কাজ করবে তার কমিটিতে বদল আসবে কিনা সেটা নিয়েও চলছে জোর চর্চা। আর সেই অশান্তি বাড়তে বাড়তে এদিন এমন পর্যায় পৌঁছিয়েছে যে ইম্পায় পৌঁছলেন সিআরপিএফ জওয়ানরা।

জানা গিয়েছে, ইম্পায় মিটিং এখনও চলছে। সিআরপিএফ এসেছে ঘটনাস্থলে। গতকাল থেকে যা চলছে তাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হল। 

কেবল সিআরপিএফ নয়, প্রচুর পুলিশ এসেছে ইম্পার অফিসে। পুলিশ অফিসার ইম্পায় এসেই মুখোমুখি হন সংবাদমাধ্যমের। জানান তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করতেই এসেছেন। 

এদিন পিয়া সেনগুপ্তর তরফে দাবি করা হয়েছে তাঁকে শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছে। আপাতত বর্তমানে বৈঠক চলছে ইম্পায়। 

প্রসঙ্গত, এদিন ইম্পার বৈঠকে আরও একটি প্রসঙ্গ উঠে আসে। বুধবার দুপুরে পরিচালক জয়ব্রত দাস হোয়াটসঅ্যাপের একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট পোস্টে করে জানান 'অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস' ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সময় ইম্পার থেকে ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এই বিষয়ে এদিন এই সংগঠনের তরফে জানানো হয়, বিষয়টি পিয়া সেনগুপ্তর কাছে আসেনি। বরং শতদীপ সাহার মাধ্যমে ফেডারেশনকে ১২ লাখ টাকা দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ছবিটি মুক্তির আলো দেখে। সেই সময় ইম্পা বলেছিল ৮ লাখ টাকা দিতে, কারণ কোনও টেকনিশিয়ান ছাড়াই তাঁরা এই ছবির শুটিং করিয়েছিলেন। প্রতিদিন ২ লাখ টাকা করে হিসেব করলেও ৪ দিনে ৮ লাখ টাকা হয়। সেই হিসেবেই এই টাকা চাওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে বুধবার ইম্পায় ডাকা বৈঠকে যে বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন সদস্যদের একাংশ, সেটা হয় না। ফলে এবার শতদীপ সাহা, কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব জানিয়েছেন আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় মিটিং না ডাকা হলে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হবেন। এদিন ইম্পার বৈঠক শেষ হওয়ার কৃষ্ণ নারায়ণ দাগার সঙ্গে আজকাল ডট ইনের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্টই জানান, "আমরা কোর্টে যাব।" কিন্তু এদিকে তো তাঁরা ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন ইম্পাকে বৈঠক ডাকার জন্য। তবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওরা যদি মিটিং না ডাকে, তাহলে তো আমাদের কাছে আইনি পন্থা ছাড়া আর উপায় থাকবে না।" আজকে বৈঠকে প্রযোজকদের কী কী স্বাধীনতা দেওয়া হল সেটা ছাড়া আর অন্য কোনও বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে? ক্ষুব্ধ কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা বলেন, "না, না। ওরা কথাই বলতে চাইছে না। আলোচনা কী হবে।"

এদিন তাঁরা তাঁদের এই চিঠিতে ইম্পার সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যে ক্রাইসিস চলছে তাতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৪ সেকশন মিটিং ডাকা হোক ইম্পাতে। সমস্ত প্রয়োজনীয় আয়োজন কোনও রকম টালবাহানা ছাড়া দ্রুত করা উচিত। এটা একটি সংগঠিত ডিম্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের তরফে। কোনও ভাবেই যেন এটিকে উপেক্ষা না করা হয়। যদি আপনি আপনার অফিসিয়াল কাজ না করতে পারেন, এবং চিঠি অনুযায়ী কাজ না করেন তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কারণ ইম্পার এই বর্তমান অবস্থা ইন্ডাস্ট্রিকে থমকে দিয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।'