টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জিপ্রযোজনা সংস্থা ‘এনআইডিয়াস’ -এর ব্যানারে আগামী ২৬শে জুন মুক্তি পেতে চলেছে এক ভিন্ন স্বাদের আবেগঘন বাংলা ছবি ‘অনেকদিন পর’। সৌরভ পালোধী পরিচালিত এই ছবিটি মূলত আমাদের বাবা-মায়েদের উৎসর্গ করে বানানো হয়েছে, যেখানে প্রৌঢ় ও বৃদ্ধদের জীবনের না বলা কথা, একাকীত্ব, নীরব মুহূর্ত আর ভালবাসার এক অব্যক্ত আখ্যানকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চিত্রাঙ্গদা শতরূপা এবং বিমল গিরি। এছাড়াও টলিউডের একঝাঁক প্রবীণ ও শক্তিশালী থিয়েটার ব্যক্তিত্বদের এই ছবিতে কাস্ট করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন— দেবেশ রায়চৌধুরী, দরিয়া দাস পালোধি, বুদ্ধদেব দাস, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাতী মুখোপাধ্যায়, বিমল চক্রবর্তী এবং সেঁজুতি মুখোপাধ্যায়। তবে এঁরা কেউই তথাকথিত বাণিজ্যিক সিনেমার ‘বড় স্টার’ বা সোশ্যাল মিডিয়ার ‘মিলিয়ন ফলোয়ার’ থাকা তারকা নন।


সম্প্রতি ছবির একটি প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে এসে পরিচালক সৌরভ পালোধী অত্যন্ত সোজাসাপটা ও নিজস্ব ছন্দে খোলসা করলেন, কেন তিনি তাঁর ছবিতে চেনা জনপ্রিয় মুখদের নিলেন না। টলিউডের চেনা ছককে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সৌরভ বলেন, “আমি চাই নায়ক-নায়িকার জন্য যেন ছবিটা না হয়। ছবির জন্য যেন নায়ক-নায়িকা হয়— এটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার মানে কি ছবিতে বড় অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকলে ছবি খারাপ হয়ে যায়? না, তা নয়। কিন্তু মানুষ আসল ভাল গল্পের জন্যই ছবি দেখে।”

নিজের বক্তব্যের সপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ের বলিউডের এক তুমুল জনপ্রিয় সিনেমার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “‘লাপতা লেডিজ’  সব মহলেই চূড়ান্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু সেই ছবির নায়ক-নায়িকার নাম জিজ্ঞেস করলে আজও আপনাকে গুগল করতে হবে। অর্থাৎ ছবি ভাল হলেই তা মানুষ দেখে, খুব নামকরা কেউ আছেন কি না তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই আমি যখন ছবিতে অভিনেতা নিই, তখন সমাজমাধ্যমে তাঁর ফলোয়ার কত সেটা দেখব, নাকি অভিনয়ে তিনি কতটা দক্ষ সেটা দেখব?”

ইন্ডাস্ট্রির চেনা সমীকরণ ও স্টার-ভ্যালুর তোয়াক্কা না করে সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনো বাণিজ্যিক ‘প্রজেক্ট’ বানাতে আসেননি, তিনি খাঁটি ‘সিনেমা’ বানাতে এসেছেন। ওঁর কথায়— “কম সুযোগ পাই, কিন্তু এরকম করেই বানাই। দেখুন, অভিনয় করেন অনেকেই, কিন্তু আক্ষরিক অর্থে ‘অভিনেতা’ কিন্তু বড্ড কম। আমি অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করি এবং এই ছবিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”

টলিউডে যেখানে বড় তারকা ছাড়া প্রযোজকেরা টাকা ঢালতে ভয় পান, সেখানে খোদ প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির মতো মেগাস্টার এই নতুন ধরনের ভাবনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সৌরভ জানান, প্রযোজক হিসেবে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি সেই চরম উদারতা দেখিয়েছেন এবং পরিচালককে নিজের স্বাধীনতায় কাজ করার সম্পূর্ণ সুযোগ দিয়েছেন।

বাবা-মায়েদের জীবনের এই নীরব একাকীত্বের গল্পকে আরও কয়েক গুণ বেশি আবেগঘন করে তুলেছে সঙ্গীত পরিচালক সপ্তক সানাই দাসের আবহ এবং গান। ওঁর সুরের জাদু ছবির প্রতিটি দৃশ্যকে দর্শকদের মনের গভীরে পৌঁছে দেবে বলে আশাবাদী টিম ‘অনেকদিন পর’। আগামী ২৬শে জুন প্রেক্ষাগৃহে এই অন্যরকম ভাললাগার গল্প দর্শকদের কতটা ছুঁতে পারে, এখন সেটাই দেখার।