ভারতীয় শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার বড়সড় ধাক্কা খেলেন বিনিয়োগকারীরা। বাজারজুড়ে ব্যাপক বিক্রির চাপে সেন্সেক্স ও নিফটি উভয়ই ১ শতাংশের বেশি পতন রেকর্ড করেছে। দিনের শেষে বিএসই সেন্সেক্স ৮৯৩ পয়েন্ট বা ১.১৬ শতাংশ কমে ৭৬,২০০.৬৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে নিফটি ৫০ সূচক ২৭৯ পয়েন্ট বা ১.১৬ শতাংশ পড়ে ২৩,৮২৪.১০ পয়েন্টে নেমে আসে।
2
10
বাজারের এই পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের সম্পদে বড় ধাক্কা লাগে। বিএসই-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মোট বাজার মূলধন আগের দিনের ৪৮০.৬ লক্ষ কোটি থেকে কমে ৪৭৫ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে আসে। অর্থাৎ মাত্র একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৬ লক্ষ কোটি সম্পদ উধাও হয়ে যায়।
3
10
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পিছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হল দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতার ইঙ্গিত। জুন মাসে ভারতের পরিষেবা খাতের বৃদ্ধির হার ১৭ মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ক্ষেত্রের বৃদ্ধিও গত তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে পৌঁছেছে।
4
10
এইচএসবিসি ফ্ল্যাশ ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই আউটপুট সূচক মে মাসের ৫৮.০ থেকে জুনে ৫৭.৪-এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে পরিষেবা খাতের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সূচক ৫৯.৮ থেকে কমে ৫৭.৩-এ দাঁড়িয়েছে। এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি করেছে।
5
10
এছাড়া চলতি বছরের বর্ষাও আশানুরূপ শুরু হয়নি। দেশের বহু জেলায় এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এল নিনো পরিস্থিতির মধ্যে দুর্বল বর্ষা কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ আয় এবং সামগ্রিক চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে চিন্তা বাড়ছে।
6
10
বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও নেমেছে, তবুও বিশ্বের বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহিত করছে।
7
10
খাতভিত্তিক সূচকগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মেটাল, আইটি এবং পিএসইউ ব্যাংক শেয়ারে। মেটাল সূচক ৩.২২ শতাংশ, আইটি সূচক ২.২৩ শতাংশ এবং পিএসইউ ব্যাংক সূচক ১.৯৭ শতাংশ পড়ে যায়। এছাড়া ব্যাঙ্ক নিফটি ১.৩০ শতাংশ এবং ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সূচক ০.৯৬ শতাংশ পতন রেকর্ড করে।
8
10
অন্যদিকে ফার্মা ও স্বাস্থ্যসেবা খাত তুলনামূলকভাবে ভাল পারফরম্যান্স দেখায়। নিফটি ফার্মা সূচক ০.৯২ শতাংশ এবং হেলথকেয়ার সূচক ০.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
9
10
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের মতে, নিফটি বর্তমানে ২৩,৮০০-২৪,২০০ পয়েন্টের সীমার নিচে নামার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৩,৬৫০-২৩,৬৩০ অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। যদি এই স্তরও ভেঙে যায়, তাহলে বাজারে আরও চাপ দেখা দিতে পারে।
10
10
সব মিলিয়ে দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য, বর্ষা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিশ্বের অনিশ্চয়তার কারণে মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড়সড় ধস নেমেছে। আগামী কয়েকদিনে অর্থনৈতিক সূচক ও বর্ষার পরিস্থিতি বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।