বিতর্ক আর তিনি যেন সমার্থক। এবার ফের শিরোনামে পরিচালক রাম গোপাল ভর্মা। তবে এ বার কোনও ছবির জন্য নয়, বরং অমিতাভ বচ্চনকে করা তাঁর একটি মন্তব্য নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে শোরগোল। 

 

রাম গোপাল বর্মা ও অমিতাভ বচ্চন-এই দুই নাম একসঙ্গে এলেই বলিউডে একধরনের ঝাঁকুনি তৈরি হয়। বিগ বি-র পরিচিত ইমেজ ভেঙে বরাবরই তাঁকে নতুনভাবে পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন রাম গোপাল বর্মা। সেই পরীক্ষারই একটি ছিল ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘নিঃশব্দ’। তবে বছর কুড়ি পর এসে স্বীকার করে নিলেন রামু -এই পরীক্ষাটা করার চেষ্টা করাটাই হয়তো ভুল ছিল!

 

সম্প্রতি, দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাম গোপাল বর্মা খোলামেলা স্বীকার করেছেন, ‘নিঃশব্দ’-এর গল্প অমিতাভ বচ্চনের পাবলিক ইমেজের সঙ্গে যায়নি, ফলে সেখান থেকেই জন্ম নেয় বিতর্ক। জিয়া খানের সঙ্গে অমিতাভের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের প্রসঙ্গ টেনে পরিচালক বলেন,
“এই দৃশ্যে এক মধ্যবয়সি মানুষ তাঁর থেকে অনেকটা ছোট এক সুন্দরী যুবতীর প্রেমে পড়ে। এটা যে সময়ের সিনেমা, সেই সময়ের জন্য এটা অত্যন্ত বিতর্কিত ছিল। বিশেষ করে, জনমানসে অমিতাভ বচ্চনের ভাবমূর্তির কারণে। দর্শক সেটা একদম মেনে নিতে পারেনি।”

 

তবে বিতর্কের মাঝেও নিজের ছবিকে অন্য চোখে দেখেন রাম গোপাল বর্মা। তাঁর মতে,“আমি আজও বিশ্বাস করি, ‘নিঃশব্দ’ আমার অন্যতম সংবেদনশীল ছবি। এবং সম্ভবত এই ছবিতেই অমিতাভ বচ্চন তাঁর জীবনের সেরা অভিনয়গুলির একটি করেছেন।” একই সঙ্গে তিনি অকপটে মেনে নেন নিজের ভুলও। রামুর সাফ কথা,“হ্যাঁ, ভুল হয়েছিল। কারণ পর্দায় অমিতাভ বচ্চনের যে ভাবমূর্তি, সেটার সঙ্গে এমন গল্প ঠিক মানানসই ছিল না।”

 

উল্লেখযোগ্য, ‘নিঃশব্দ’ মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। ছবিটি অনুপ্রাণিত ছিল হলিউডের ‘আমেরিকান বিউটি’ এবং হিন্দি ছবি ‘অনোখা রিশতা’ থেকে। অমিতাভ বচ্চন ও জিয়া খান ছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন আফতাব শিবদাসানি, রেবতী, শ্রদ্ধা আর্যা, রুখসার-সহ আরও অনেকে।

 

ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছিল এক প্রায় ৬০ বছরের পারিবারিক ফটোগ্রাফারকে ঘিরে। মেয়ের ১৮ বছরের বন্ধুর ছবি তুলতে গিয়েই তার জীবনে আসে অপ্রত্যাশিত মোড়। সাহসী ও স্পর্শকাতর এই বিষয়বস্তু অভিনয়ের প্রশংসা পেলেও গল্প ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ছবি। বক্স অফিসেও মুখ থুবড়ে পড়েছিল ‘নিঃশব্দ’।

 

আজ, বছর ১৯ সময় পরে দাঁড়িয়ে, সেই আলোচিত ছবিকে ঘিরে রাম গোপাল বর্মার স্বীকারোক্তি আবার মনে করিয়ে দিল, কিছু ছবি সময়ের থেকে এগিয়ে থাকে, কিন্তু তার মূল্য দিতে হয় নির্মাতাকেই।