২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে অরিজিৎ সিং জানিয়ে দেন তিনি আর প্লেব্যাক করবেন না। স্বেচ্ছাবসর নিচ্ছেন। কারণ নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়। এবার একটি সম্ভাব্য কারণ প্রকাশ্যে এল যা দেখে শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছে নেটপাড়া। কী ঘটেছে জেনে নিন বিস্তারিত।
২০২৪ সালে প্রায় এক মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চার হাত এক হয়েছিল অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্টের। তাঁদের সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিলেন অরিজিৎ সিং। এবার জানা যাচ্ছে আম্বানি পরিবারের জন্যই কেবল গান গাইবেন অরিজিৎ সিং, তার জন্যই নাকি স্বেচ্ছাবসর নিলেন। শুধু তাই নয়, এই কারণের জন্য অনন্ত আম্বানির থেকে নাকি ৫০০ কোটি টাকা নিয়েছেন গায়ক! এই কোটি টাকার বিনিময়ে প্লেব্যাক জগৎ থেকে নিজেকে তিনি সরিয়ে নিলেন অরিজিৎ।
শুধু তাই নয়, দাবি করা হচ্ছে এতদিন যে কণ্ঠ কোটি কোটি মানুষের আবেগ, ভাল লাগার জায়গা ছিল সেটা এখন কেবলই অ্যান্টিলিয়ার সম্পত্তি। ব্রেকফাস্টে ধোকলা খেতে খেতে আম্বানি এখন 'চন্না মেরেয়া' গানটি লাইভ শুনবে অরিজিৎ সিংয়ের থেকে। বলাই বাহুল্য জিওর পর এটাই রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে বড় মনোপলির নজির। কী এতদূর পড়ে ঘাবড়ে গিয়েছেন নির্ঘাত? ভাবছেন এসব কী? আসলে এই সবটাই স্যাটায়ার কমিউনিটি বলে একটি ইনস্টাগ্রাম পেজের তরফে মজা করে লেখা হয়েছে।
অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক করবেন না জানিয়ে দেওয়ার পর থেকে যেমন একদিকে তাঁর অনুরাগীরা মুষড়ে পড়েছেন, এই খবর মেনে নিতে পারছেন না, তেমনই এই ধরনের নানা মিম দেখা যাচ্ছে। কখনও তাতে জুড়ে যাচ্ছে ধোনির নাম, তো কখনও আবার আম্বানি পরিবারের।
২৭ জানুয়ারি অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে ঘোষণা করে লেখেন, 'হ্যালো। সবাইকে হ্যাপি নিউ ইয়ার। আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই শ্রোতা হিসেবে এতগুলো বছর ধরে আমায় এত ভালবাসা দেওয়ার জন্য। আমি আনন্দের সঙ্গে এটা ঘোষণা করছি যে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আমি আর নতুন কোনও প্রজেক্ট নেব না এখন থেকে। আমি এখানেই ইতি টানলাম। এই সফরটা দুর্দান্ত ছিল।' তিনি এও জানান গোটা বিষয়টায় তিনি 'বোর' হয়ে গিয়েছিলেন তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া গায়ক চান নতুনরা উঠে আসুক এবার, যাতে তাঁদের থেকে তিনি অনুপ্রেরণা পেতে পারেন। এবং অরিজিৎ সিং চান তাঁর অন্যান্য কাজ যেমন মিউজিক লেবেলের কাজ, ছবি বানানো, সমাজসেবামূলক কাজে মন দিতে।
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, 'ফির মহব্বত' গানটি দিয়ে তিনি তাঁর বলিউডে ডেবিউ হলেও, ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া 'আশিকি ২' ছবির 'তুম হি হো' গানটির হাত ধরে তিনি রাতারাতি তারকা বনে যান। এরপর আর তাঁকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। উপহার দিয়েছেন 'অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল', 'আপনা বানালে', 'ভে মাহি', 'গেহরা হুয়া', 'কেশারিয়া', ইত্যাদির মতো একাধিক হিন্দি হিট গান। 'বোঝে না সে বোঝে না', 'কে তুই বল', 'গানে গানে', 'ভালবাসার মরশুম', ইত্যাদির মতো বাংলা গান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
