বক্স অফিসে কার্যত অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন রণবীর সিং। মুক্তির মাত্র সাত দিনের মাথায় বিশ্বজুড়ে ১০০০ কোটি টাকার রাজকীয় গণ্ডি পেরিয়ে গেল তাঁর নতুন স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা ২’-এর পর দ্বিতীয় দ্রুততম ভারতীয় সিনেমা হিসেবে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল আদিত্য ধরের এই ছবি।


গত ১৯ মার্চ বড় পর্দায় আসার পর থেকেই ‘ধুরন্ধর ২’ একের পর এক রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। প্রথম তিন দিনেই দেশের বাজারে ১০০ কোটির গণ্ডি টপকে শুরু হয়েছিল এই মহাকাব্যিক যাত্রা। প্রথম সপ্তাহ শেষে বিশ্বজুড়ে ছবিটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১০০৬ কোটি টাকা। গতির নিরিখে এস এস রাজামৌলির ‘বাহুবলী ২’ (৯ দিন), শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ কিংবা ‘জওয়ান’-কেও অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে এই স্পাই ড্রামা। বুধবার পর্যন্ত ভারতে এই ছবির নেট কালেকশন ৬২৩ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে প্রায় ২৬১ কোটি টাকা।


দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আঙিনায় ‘ধুরন্ধর ২’ এক বিরাট সাফল্যের নাম। প্রথম সপ্তাহেই ওভারসিজ মার্কেট থেকে প্রায় ২৮.৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে এই ছবি। বুধবার সকালেই ১০০ মিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে অষ্টম বলিউড সিনেমা হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে রণবীরের এই ছবি। মনে করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের শেষেই শাহরুখের ‘পাঠান’ এবং প্রভাসের ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র মোট  আয়কেও ছাপিয়ে যাবে এই ছবি।


রণবীর সিং ছাড়াও এই ছবিতে আর মাধবন, অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত এবং সারা অর্জুনের মতো দাপুটে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতি দর্শকদের হলমুখী করেছে। গত বছর ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘ধুরন্ধর’ ছবিটির মোট আয় ছিল ১৩০০ কোটি টাকা। সিক্যুয়েলটি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই এটি ভারতীয় সিনেমার সব রেকর্ড ভেঙে এক নতুন শিখরে পৌঁছাবে।


প্রসঙ্গত, এহেন অবহেও বিতর্ক কিন্তু পিছু ছাড়েনি ধুরন্ধর ২-র। ছবির একটি দৃশ্যে পবিত্র গুরবাণী পাঠ করার সময় অভিনেতা আর মাধবনকে ধূমপান করতে দেখা গিয়েছে—এই অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে নেটপাড়া। শিখ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে অবশেষে মঙ্গলবার একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন অভিনেতা। স্পষ্ট জানালেন, কাউকে আঘাত করা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না।

ঠিক কী ঘটেছিল?
ছবিতে মাধবনের একটি দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তোলেন মহারাষ্ট্রের শিখ সংগঠনের নেতা গুরজিৎ সিং খের। তাঁর অভিযোগ ছিল, দশম গ্রন্থ সাহেবের পবিত্র বাণী পাঠ করার সময় মাধবন সিগারেট খাচ্ছিলেন, যা শিখ ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে। এই মর্মে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়। দাবি তোলা হয় পরিচালক আদিত্য ধর, রণবীর সিং এবং আর মাধবনের নিঃশর্ত ক্ষমার। বিতর্ক বাড়তে দেখে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন মাধবন। সেখানে তিনি জানান, দৃশ্যটি শুট করার সময় পরিচালক আদিত্য ধর অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। মাধবনের দাবি, "সংলাপ বলার আগেই আমি সিগারেটটি নিভিয়ে দিয়েছিলাম। আপনারা ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখবেন, কথা বলার সময় আমার মুখ দিয়ে কোনো ধোঁয়া বেরোচ্ছে না। এমনকি সেই ফ্রেমে কোনও সিগারেটও নেই।"

 

 

&t=2069s