বলিউডের সর্বকালের আইকনদের মধ্যে প্রথম সারিতে নাম গাঁথা রয়েছে দেব আনন্দ-এর। দেব আনন্দ - যাঁর নামেই একসময় রোম্যান্স আর স্টাইলের সংজ্ঞা বদলে গিয়েছিল, তাঁকেই নাকি অমিতাভ বচ্চনের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল প্রায় আধঘণ্টা। ২০০৭ সালের এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ‘জুয়েল থিফ’ অভিনেতার অনুরাগীরা। অনেকের কাছেই এই অভিজ্ঞতা ছিল চরম অস্বস্তিকর এবং অপমানজনক।
এই ঘটনার বিস্তারিত সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছেন দেব আনন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী মোহন চুরিওয়ালা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রায় দু'দশক আগের এই ঘটনাটি ঘটেছিল যখন দেব আনন্দ তাঁর আত্মজীবনী ‘রোম্যান্সিং উইথ লাইফ’ প্রকাশ করছিলেন।
মোহনের দাবি, দেব সাহেবেরবই প্রকাশ অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চনকে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বচ্চন পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অমর সিং। শুরুতে ঠিক হয়েছিল, দেব আনন্দেরই এক সহকর্মী বইটি উন্মোচন করবেন। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। মোহন চুরিওয়ালা বলেন, “অমর সিং দেব আনন্দের খুব পরিচিত ছিলেন। মুম্বইয়ে এলে নিয়মিত দেখা করতেন। এমনকি দেব আনন্দের শেষ ছবি ‘চার্জশিট’-এ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকাও করেছিলেন।” মোহনের দাবি, অমর সিং নিজেই ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তিনি অমিতাভ বচ্চন, টিনা আম্বানি এবং অনিল আম্বানিকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে আসবেন। চারজনের জন্যই দেব আনন্দ স্বাক্ষরিত বই আলাদা করে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু সমস্যার শুরু হয় সেই রাজনীতিকে ঘিরে। মোহন চুরিওয়ালা জানান, ওই চারজনই তখন সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে তাঁরা অস্বস্তিতে পড়েন। যেহেতু অনুষ্ঠানটি ছিল ‘ওপেন হাউস’, তাই কাউকে আমন্ত্রণ বাতিল করা সম্ভব ছিল না। তখন মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস সরকারের ক্ষমতা, মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিলাসরাও দেশমুখ। ফলে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ছিল তুঙ্গে।
প্রথমে জানানো হয়েছিল, বই প্রকাশের পর দেব আনন্দের সঙ্গে নৈশভোজ করবেন অমিতাভ-অমররা। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই তাঁরা চলে যান, এমনকী বইটিও নেননি। বারবার ফোন করা হলেও অমর সিংয়ের তরফে কোনও উত্তর মেলেনি। অনেক রাতে তিনি ফোন করে কংগ্রেস নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। শেষমেশ সিদ্ধান্ত হয়, পরদিন সকালে বইগুলি অমিতাভ বচ্চনের বাড়িতে পৌঁছে দেবেন মোহন চুরিওয়ালা। বিষয়টি মিটিয়ে নিতে স্বয়ং দেব আনন্দই তাঁর সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যে দেব আনন্দ পাঁচ ও ছয়ের দশকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শ্রদ্ধেয় মুখ।
কিন্তু অমিতাভের বাড়ি জলসায় পৌঁছে তাঁদের যে অভিজ্ঞতা হয়, তা কারও কল্পনাতেই ছিল না। মোহন চুরিওয়ালার দাবি, দেব আনন্দকে নিয়ে তাঁকে প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়। শেষে নাইট স্যুট পরে অমর সিং এসে দেখা দেন। তার পরেও অপেক্ষা শেষ হয়নি, আরও কিছুক্ষণ পরে এসে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন অমিতাভ বচ্চন।
এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে বিতর্ক। একদিকে বলিউডের দুই কিংবদন্তির নাম, অন্যদিকে সম্মান আর প্রটোকল, সব মিলিয়ে দেব আনন্দকে এভাবে অপেক্ষা করানো কি আদৌ উচিত ছিল? প্রশ্ন তুলছেন অনুরাগীরা।
