মাস কয়েক আগে শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে লাইভে এসে একাধিক অভিযোগ এনে আত্মহননের চেষ্টা করেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। প্রায় ৭০টি ঘুমের ওষুধ খান। চিকিৎসকদের চেষ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর তাঁকে যেমন অনেকেই সমর্থন করেছেন, অনেকে আবার কটাক্ষ করেছেন। কিন্তু আবার কী এমন ঘটল যে ফের এ হেন ইঙ্গিতবহ পোস্ট করলেন গায়িকা?
এদিন দেবলীনা নন্দী ফেসবুকের পাতায় একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, 'কিছু মানুষ আছে যারা সব কিছুর জন্য মেয়েদের দায়ী করে। যদি স্বামী মারধর করে তাহলে বলবে নিশ্চয়ই কিছু তো করেছে তাই মারে। আর যদি স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে উল্টো একটা চর মারে তাহলে বলবে মেয়ে মানুষ তো কি বাচাল বাবা, একটু সহ্য তো করতে পারে। যদি অত্যাচার মুখ বুঝে মেনে নেয় তাহলে সবাই শেখাবে যে মুখ বুঝে মেনে নিওনা, বলতে শেখো প্রোটেস্ট করো। আর যদি আইনি পদক্ষেপ নেয় তাহলে বলবে যে নিশ্চয়ই এগুলো আগে থেকে প্ল্যানিং করা ছিল। দিনের পর দিন যদি একটু একটু করে ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই শেষ করে দেবে ভাবে তাহলে সে নাটক করছিল। তা নাটক যদি এতই সোজা হয় তাহলে যাদের নাটক মনে হচ্ছে তারাও একবার চেষ্টা তো করতেই পারো। আমি সব কিছুর জন্য নিজেকে দায়ী করেছি তাই নিজের জীবন টা সোশ্যাল মিডিয়া তে তুলে ধরাও বন্ধ করে দিয়েছি, যেখানে বেশ কিছু মানুষ এমন আছে যাদের এই সোশ্যাল মিডিয়া এর কারণে জীবনে ঝড় ওঠার পরেও দিব্যি হাসি মুখে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করে নিজের জীবনের সবটা শেয়ার করে চলেছে। কিন্তু আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি, কারণ আমি জানি যে কিছু অপদার্থ আছে যারা শুধু মজা নেবে। তোমার কষ্ট বুঝবে না, তোমাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে না উল্টে ধীরে ধীরে নোংরা কথার মাধ্যমে তোমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে, এরা হলো এক একটা খুনি যারা সাধারণ মানুষের মুখোশের পিছনে লুকিয়ে থাকে।'
দেবলীনা এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও লেখেন, 'কোনো ট্যালেন্ট যারা শুধু মরার নাটক করে যদি সবার শীর্ষে পৌঁছানো যায়, তাহলে সবাই এই ট্রাই টা করো একবার,আর যদি সেই সাহস না হয় তাহলে একবার নিজের মেয়ে বোন বউ মা এদের উপর ও ট্রাই করতে পারো। একটা মানুষ কে না জেনে না চিনে তার চরিত্র নিয়ে কথা বলা খুব সহজ। আসলে এখানেও আমাদের ও দোষ। আমরাই নিজেদের জীবনের ভালো মুহূর্ত গুলো পাবলিক ফোরাম এ শেয়ার করে পাবলিক এ কথা বলার সুযোগ করে দিই, তাই খারাপ কিছু হয়ে গেলে তখন সেই মানুষটা সবার চোখে বিষ হয়ে যায়।'
নিজের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়ে গায়িকা লেখেন, 'সবার কাছে হাতজোড় করে একটাই অনুরোধ আমি আমার জীবনের সাথে এখনও যুদ্ধ করছি, কাউন্সিলিং করাচ্ছি, প্রতি মুহূর্তে লড়ে চলেছি যাতে মা বাবা ভাই এর জন্য বেঁচে থাকতে পারি, আমি ঘরে বসে যখন কান্নাকাটি করেছি তখন নাটক বলেছে কিছু মানুষ আর এখন পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করছি তাতেও আমি খারাপ। অনেক নতুন নতুন বন্ধু বান্ধবী পেয়েছি যারা প্রতি নিয়ত পাশে আছে। যাদের মনে হচ্ছে আমি যা বলেছি সব মিথ্যা বা নাটক তাহলে একবার যাও আমার মতো ১ টা বছর তাদের সাথে কাটিয়ে এসো,তবে হ্যাঁ যাওয়ার আগে নিজের আত্মসন্মান কে ভুলে পরিবার কে ভুলে যেও, আমার গ্যারেন্টি ১ মাস ও কেউ দম নিতে পারবে না। আমি লোকে কি বলবে ? এটা ভেবেই রয়ে গেছিলাম, আমাকে দয়া করে রেহাই দিন এবার।' (পোস্টদাতার বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হল)
বলাই বাহুল্য সেই ঘটনার পর তাঁর উপর এখনও যে সাইবার আক্রমণ চলছে সেটার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে এদিন এই কথাগুলো তিনি লিখেছেন।
প্রসঙ্গত, দেবলীনা নন্দী এই ঘটনার পর কাজে ফিরেছেন। তিনি মহুয়া রায়চৌধুরীর বায়োপিক 'গুনগুন করে মহুয়া' গান গাইবেন। ইতিমধ্যেই তিনি সেই গানের রেকর্ডিং করে ফেলেছেন।
















